ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা নিয়েছেন দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ছানি রোগে আক্রান্ত ৩২ জনকে অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলার বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বিলঘর গ্রামের কৃতিসন্তান ও কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক সোহাগ ভূঁইয়ার ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লার পরিচালনায় এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় আয়োজিত ক্যাম্পে রোগীদের চক্ষু পরীক্ষা, ছানি রোগী শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী লেন্স দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী নুরুল ইসলাম নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস।
শফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফ আলী, কসবা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল খায়ের স্বপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন এবং বিলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউল হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহ আলম। বক্তব্য রাখেন সার্জেন্ট (অব.) ফেরদৌস ওয়াহিদ, সার্জেন্ট (অব.) হুমায়ুন কবির, আইয়ুব সরকার, রোশন আলী সরদার, সাবেক মেম্বার কবির আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম ভূইয়া। এ সময় সাবেক মেম্বার জহিরুল ইসলাম, তোফাজ্জল আলী, মুজিবুর রহমান ভূইয়া, ফোরকান উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পে বিলঘর ও আশপাশের এলাকার প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৩২ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়। তাদের বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লায় পাঠানো হবে। অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লেন্স সংযোজনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।
প্রধান অতিথি মুহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
আয়োজক মো. এমদাদুল হক সোহাগ ভূঁইয়া বলেন, অর্থের অভাবে এলাকার কোনো মানুষ যেন চোখের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।
এফপি/ফ