টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের পাইলট প্রকল্পের আওতায় ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে দেশের আরও দুটি গ্রামকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়।
এ উপলক্ষে রাঙামাটি প্রান্তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, প্রথাগত প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গ্রামবাসী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কাজ করছে সরকার। দেশের উন্নয়নে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসডিজি ভিলেজগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ পর্যটন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এই মডেল দেশের অন্যান্য গ্রামেও বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসডিজি ভিলেজ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উন্নয়ন মডেলে রূপ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের একটি দৃষ্টান্তমূলক গ্রামীণ উন্নয়ন মডেল তুলে ধরা সম্ভব হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলেন। এ সময় গ্রামবাসী তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, নারীর ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ও কর্মসংস্থানসহ এসডিজির বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলোকে এ প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
নির্বাচিত গ্রামগুলোর স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর লক্ষ্য হলো গ্রামগুলোকে ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। সফল হলে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের তিনটি গ্রামকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এগুলো হলো—রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম।
এফপি/ফ