Dhaka, Monday | 10 August 2026
         
English Edition
   
Epaper | Monday | 10 August 2026 | English
শিরোনাম:

ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফল বিপর্যয়, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম  (ভিজিটর : ১৮৮)

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হতাশাজনক ফলাফলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সচেতন মহল।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, বিদ্যালয়টি থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৩৬ জন। ফলে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগও উঠে এসেছে। কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা নিয়ে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসহাকের নাম উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মো. আলীম লেখেন, “ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখার চেয়ে বর্তমানে রাজনীতি চর্চা বেশি হচ্ছে। আজকের এসএসসি ফলাফলই তার প্রমাণ।” ওসমান রানা দাবি করেন, “বর্তমান প্রধান শিক্ষক যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন বিদ্যালয়ের অবনতি চলতেই থাকবে।” জাহেদুল ইসলাম আদনান মন্তব্য করেন, “প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিবর্তন করতে হবে, এরপর রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তাহলেই ভালো ফলাফলের আশা করা যায়।” অন্যদিকে সাজু বড়ুয়া লিখেছেন, “১৪৬ জনের মধ্যে মাত্র ৩৬ জন পাস করেছে। শুধু শিক্ষকদের নয়, অভিভাবকদের ভূমিকাও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু মানুষের পোস্ট ও মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান রানা বলেন, “আমি মাত্র দুই মাস আগে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ফলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অধিকাংশ সময়ে আমার সরাসরি দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়নি। তারপরও প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করা হবে। নিয়মিত মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবার সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এফপি/অ


সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝