পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় সড়কে আবারও অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পরে সেগুলো সংস্কার করা হলেও মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে পুনরায় সড়ক নষ্ট হয়ে যায়।
শনিবার (১ আগস্ট) বৃষ্টির মধ্যেই সেই সড়কে পুনরায় সংস্কারকাজ করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় ও লোপাট করা হচ্ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আলিফ পরিবহনের চালক মো. বেল্লাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জুন মাসে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়। পরে সেগুলো সংস্কার করা হলেও ১০ দিনের মাথায় আবারও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এখন বৃষ্টির মধ্যেই পুনরায় সংস্কারকাজ চলছে। তার ভাষ্য, “এভাবে দায়সারাভাবে কাজ করে সরকারি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা উচিত।”
জানা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৭১ কিলোমিটার অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার আওতাভুক্ত। ২০০০ সালে নির্মিত এই মহাসড়কটি নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। ২০১৮ সালে আংশিক সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
পটুয়াখালী সেতুর টোল আদায় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত ৯১২টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। এছাড়া সহস্রাধিক মাহেন্দ্র, ট্রলি, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও চলাচল করে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয় এবং ৩০ জুন কাজ শেষ হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের পিচ ও পাথর উঠে গিয়ে শত শত খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সওজ বিভাগ পুনরায় সংস্কারকাজ শুরু করে। কিন্তু সেই সংস্কারও টেকেনি। শনিবার বৃষ্টির মধ্যেই আবারও ওই সড়কে মেরামতকাজ চালাতে দেখা যায়।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শাখারিয়া থেকে মহিষকাটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ইটের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির মধ্যেই শ্রমিকরা খানাখন্দে নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সংস্কারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিথুন কর্মকার বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারাভাবে কাজ করায় এত দ্রুত সড়কের এই বেহাল অবস্থা হয়েছে। তিনি সংস্কারকাজের মান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
যাত্রী নাজমুল আহসান ও রাশেমুল হাওলাদার বলেন, কয়েকদিন আগেই এই সড়কে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। এখন আবারও একই সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং বৃষ্টির মধ্যেই পুনরায় কাজ করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, “সংস্কারের ১০ দিনের মধ্যেই যদি আবার সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তাহলে আগের কাজের মান কোথায়?” তারা এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, “কর্তৃপক্ষ যেভাবে কাজ করতে বলেছে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি। এর বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বৃষ্টির মধ্যে সংস্কারকাজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “খানাখন্দ ছোট থাকতেই মেরামত করতে হয়, না হলে তা আরও বড় হয়ে যায়। তাই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে।” তবে বৃষ্টির মধ্যে করা এই সংস্কারকাজ কতটা টেকসই হবে- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, “এটি সরকারের চলমান প্রক্রিয়া।”
এফপি/ফ