সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর সরকারি চিংড়ি ও মৎস্য খামারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, উন্নয়ন কাজের বরাদ্দে অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং বদলির আদেশের পর খামারের মাছ বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি অর্থের নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক, মৎস্যচাষি, শ্রমিক ও সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সূত্র ও খামার-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তাদের দাবি, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ কাজ বাস্তবে সম্পন্ন করা হয়নি। পাশাপাশি রাজস্ব খাতের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, খামারের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রায় ৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ উত্তোলন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে অর্থের হিসাব-নিকাশ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খামারটি দীর্ঘদিন ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পরিবারসহ খামারের ভেতরে বসবাস করেছেন এবং ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানও সেখানে আয়োজন করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি বিল-ভাউচার ও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিপত্র অফিসে সংরক্ষণ না করে ব্যক্তিগত বাসভবনে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি ওঠে তার বদলির আদেশ জারির পর। অভিযোগকারীদের দাবি, গত ২৩ জুলাই বদলির আদেশ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর ২৪ জুলাই ভোরে খামারের বিভিন্ন পুকুর থেকে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা হয় এবং পরে সেগুলো স্থানীয় ঘের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাছ ধরার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, তিনি পৌঁছানোর আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ ধরা ও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বদলির আদেশ কার্যকর না করতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মৎস্য অধিদপ্তরের স্মারক নং ৩৩.০২.০০০০.০০০.১০২.৫২.০০০১.২১.২৯৬, তারিখ ২৩ জুলাই ২০২৬-এর এক প্রজ্ঞাপনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামকে এল্লারচর সরকারি মৎস্য খামার থেকে মাগুরা সদর মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে বদলি করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বদলির আদেশ দ্রুত কার্যকর করা হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এফপি/ফ