মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পড়া না পারার অজুহাতে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনায় শিশুটির মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) শিশুটির পরিবার থানায় এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী আখি আক্তার (৯) শ্রীনগর উপজেলার বিরতারা ইউনিয়নের মজিদপুর দয়হাটা এলাকার বাগে নুরানীয়া হাফেজীয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সাফায়েত পড়া না পারার অজুহাতে আখিকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাকে আরও মারধর করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে। তবে পরে তীব্র ব্যথায় কাতর হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে আখি মারধরের ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা মো. আলমগীর খাঁন জানান, ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জলের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি চেপে যাওয়ার কথা বলেন। তবে মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে শনিবার শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এফপি/ফ