চতুর্থ দিনের মতো রাঙামাটিতে টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাঙামাটিতে এ পর্যন্ত ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। আশ্রয় নেওয়া লোকজনের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
টানা বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী সড়ক ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের উগলছড়ি, বেপারী পাড়া, নিউলাইল্ল্যা ঘোনা এবং পৌরসভার বটতলী, মাদ্রাসা পাড়া ও হাজী পাড়ার কিছু অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নিউটন দাশ জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও কাজ করছেন। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে টানা বর্ষণের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
তবে নিষেধাজ্ঞার আগে যারা সাজেকে ভ্রমণে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক বর্তমানে আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি জমে যান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা আটকা পড়েন।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, বিকালে পানি কমলে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের চন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাঙামাটিতে আজকের এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ শতাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা অন্যদেরও রাতের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা দুর্যোগ মোকাবেলায় সহযোগিতা করছেন।
এদিকে রাতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল রাঙামাটি আসবেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।
এফপি/র