খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষে ১ হাজার ৭০৫ জনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে ৬৯৭ জনকে বাদ দিয়ে চুড়ান্ত এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। আজ মঙ্গলবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ওই দিন রাতেই নির্বাচনী আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায় জানান, আপিল আবেদন গ্রহণ করে নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ফলাফল জমা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, 'প্রাথমিক ভোটার তালিকার ৬৯৭ জনের বিষয়ে আপত্তি প্রদান এবং আপিলে সেটি মঞ্জুর করায় ৬৯৭ জন সদস্যকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা চেম্বারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১ জুলাই নির্বাচন উপলক্ষে ২ হাজার ৪০২ জনের প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন বোর্ড। ৩ জুলাই ভোটার তালিকার ৬৯৭ জনের বিষয়ে আপত্তি দেন কয়েকজন সদস্য।
আপত্তির আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত নতুন সদস্য হিসেবে সাধারণ শ্রেণিতে ৫৮১টি ও সহযোগী শ্রেণিতে ১১৬টিসহ মোট ৬৯৭ জনের নাম সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ভাবে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চব্বিসের ৫ আগষ্ট পরবর্তী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ পর্যন্ত তিনজনকে প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তাদের ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে খুলনা চেম্বারের দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য বলা হয়। নির্বাচন আয়োজন করার জন্য নতুন সদস্য তৈরি করার ব্যাপারে প্রশাসককে কোনো নির্দেশনা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়নি।
এছাড়া বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৮ ধারায় প্রশাসকের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে নতুন সদস্য তৈরির কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব প্রশাসকের নেই।
খুলনা চেম্বারের গঠনতন্ত্রের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, নতুন সদস্য হিসেবে আবেদনকারীর পক্ষে বা বিপক্ষে পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। এখানে নতুন সদস্য ভর্তির ব্যাপারে প্রশাসক কর্তৃক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা অনুমোদনের বিধান নেই।
এ অবস্থায় গত দেড় বছরে যে সব নতুন সদস্য পদের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। ফলে এ সকল আবেদনকারী কোনোভাবেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না।
চেম্বার অব কমার্স সূত্রে জানা গেছে, অভ্যুত্থানের পর খুলনা চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। প্রশাসক কয়েক দফা নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে সফল হননি।
সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাঁকে ৪ মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ফলে গত ২২ মে নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তপসিল অনুযায়ী আগামী ২২ আগস্ট ভোট গ্রহণ হবে।
এবার সভাপতি, একজন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি, দুইজন সহ-সভাপতি, ১৫টি সাধারণ সদস্য শ্রেণির পরিচালক, ৬টি সহযোগী সদস্য শ্রেণির পরিচালক ও তিনটি বাণিজ্যিক দলের পরিচালকসহ মোট ২৮টি পদে সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে যখাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানাগেছে।
এফপি/সা