মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১১ যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস সূত্র।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার সিরাজদিখান-মুন্সীগঞ্জ সড়কের কুসুমপুর বৌবাজার এলাকায় ওই দূর্ঘটনা ঘটে। মুন্সীগঞ্জের বজ্রযোগীনি এলাকা থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে বিদেশগামী দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ লিটনের স্ত্রী মমতাজ বেগম পানিতে ডুবে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেন।
এদিকে দূর্ঘটনার পর পরই তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা দূর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসের যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাইক্রোবাসের ১০ যাত্রী জীবিত উদ্ধার হলেও ওই নারী নিখোঁজ হয়।
সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় এবং মমতাজ বেগমের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা ও মো. লিটনের স্ত্রী। আহতরা হলেন- লিটন সরকার (৪০) নিহতের ছেলে তোহাদ (১১), মেয়ে ফাতেমা আক্তার (৯), স্বজন ফরিদা বেগম (৪৫), আলেয়া (৫৫), হাসান (২৭), রাজিয়া (৩৫) ও উষা (১৭) অহনা (১৫), ফারজানা (১৭)।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ফরিদা, হাসান, আলেয়া, রাজিয়া ও উষাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তোহাদ ও ফাতেমাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জামশেদ ফরিদি বলেন, দুপুর পৌনে একটার দিকে নারী ও শিশুসহ আটজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে মমতাজ বেগম মৃত অবস্থায় ছিলেন। আহতদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজনকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস। মাইক্রোবাসে ১১ জন যাত্রীর মধ্যে ১০ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এফপি/অ