চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন এই ভাড়া কাঠামো ঘোষণা করা হলেও রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সোমবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় নতুন ভাড়া কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া গড়ে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ টাকা। দূরবর্তী রুটে ভাড়া আরও বেশি। এর মধ্যে লোহাগাড়া উপজেলায় নন-এসি বড় অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৫ হাজার ৪০০ টাকা এবং এসি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৫ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় মেয়র জানান, হাসপাতাল এলাকায় নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হবে, যাতে রোগী ও স্বজনরা সহজেই তথ্য জানতে পারেন। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না বলেও তিনি কঠোর নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার দায়ভার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতিকে নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে জরিমানাও করা হবে। রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ক্যাম্পাস ও সামনের সড়কে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ এবং অ্যাম্বুলেন্সের নামে মাইক্রোবাস পরিচালনা বন্ধে বিআরটিএকে কার্যকর ভূমিকা নিতে বলা।
সভায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা দাবি করেন, নির্ধারিত রুটের বাইরে অনেক অ্যাম্বুলেন্স এসে যাত্রী পরিবহন করে, ফলে মূল চালকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অনেক অ্যাম্বুলেন্স রোগী নামিয়ে ফেরার পথে আবারও ভাড়া আদায় করছে, যা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো ব্যস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন হাজারো রোগী ও স্বজনের চাপ সামাল দিতে হয়। সীমিত অবকাঠামো ও জনবলের মধ্যে এই চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে পরিবহন ব্যবস্থার অনিয়ম ও অস্থিরতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাড়া বৃদ্ধি একদিকে বাস্তবতার প্রতিফলন হলেও এর সুফল তখনই মিলবে, যখন নির্ধারিত ভাড়া মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। না হলে বাড়তি ভাড়ার বোঝা শেষ পর্যন্ত রোগী ও সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।
সুজন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, “চট্টগ্রাম মেডিক্যাল থেকে রোগী নিয়ে বাসায় ফিরতে গিয়ে আমরা প্রায়ই ভাড়ার ঝামেলায় পড়ি। আগে যে ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে ছিল, এখন অনেক সময় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। রোগী নিয়ে তখন দর কষাকষি করার মানসিক অবস্থাও থাকে না। বাধ্য হয়েই বেশি টাকা দিতে হয়। সরকার ভাড়া নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেটা মানা হচ্ছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।”
আরেক রোগীর স্বজন তুহিন জানান, “আমরা সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আসি জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে। সেই সময় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা অনেক সময় ইচ্ছামতো ভাড়া দাবি করে। নির্ধারিত রেট আছে শুনি, কিন্তু সেটা দেখিয়ে কেউ কথা বলে না। জরুরি অবস্থায় দরদাম করার সুযোগও থাকে না। এখন ভাড়া আবার ৩০ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু যদি মাঠপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ না থাকে তাহলে এই সিদ্ধান্তও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাবে না।”
এফপি/এমআই