ধর্ষণসহ সকল অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া মেনেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া সাম্প্রতি সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য পুলিশ-র্যাব সহ সকল বাহিনীর সমন্বয়ে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এবিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ, ছিনতাই-চাঁদাবাজি সহ সংঘটিত ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের ধরার ব্যাপারে সরকার- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কমিটমেন্টের যে নূন্যতম অভাব নাই, সেটা তো সবাই শিকার করবে বলে, দাবি করেন মন্ত্রী।
কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য মাদ্রাসা, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা, চট্টগ্রাম-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সড়ক, রেল ও বিমানপথে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অগ্রগতি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিল্প, পাটবস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
পরে মন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলায় গত ৬ মে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার চার বছরের শিশু কন্যা ফাহিমা আক্তারের মা-বাবাকে দেখতে তাদের বাড়িতে যান।
এরআগে, নগর ভবনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে নগর পরিষ্কার রাখেন বলেই আমাদের শহর এত সুন্দর। আমরা তাদের কাজকে সম্মান করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তাদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা যেমন নিয়মিত নগর পরিষ্কারে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন, তেমনি আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাতেও দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ করে শহরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন কোয়ার্টার নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য এই বিশেষ অনুদান পাঠিয়েছেন, যার ফলে কর্মীদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আধুনিক নগরী গড়ে তুলব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকাসহ মোট ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিশেষ অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হয়। এর আওতায় সিসিকের ১ হাজার ১৫৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।
এফপি/জেএস