মেহেরপুরে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা শিশু সহিংসতা দমন আদালত। সেইসাথে তিন লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর জেলা শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।
ফাঁসির রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া শিশুটি তার পিতাকে বাড়ির পাশের মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় শাকিল হোসেন শিশুটিকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাট খেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে মেয়েটির পিতা ইছানুল হক গাংনি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ধর্ষককে আটক করে কারাগারে প্রেরণ করে। আদালত ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে ও সশরীরে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্ষক শাকিব হোসেনকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন। মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ভুক্তভুগী শিশুটির পরিবার খুশি বলে সাংবাদিকদের জানান।
অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান।
উল্লেখ্য, এই রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র ২৯ কার্যদিবসে রায় দেয়া হলো।
এফপি/অ