পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে কর্মব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বটি ও কুড়ালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের ভাটিতে কাজ করছেন কামাররা।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কামারশালাগুলোতে পুরোনো অস্ত্র শান দেওয়া ও নতুন সরঞ্জাম তৈরির ধুম পড়েছে। অনেকেই আগেভাগেই নিজেদের ব্যবহৃত দা ও ছুরি ধার করাতে নিয়ে আসছেন। ফলে প্রতিটি কামারশালায় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নবাবগঞ্জ নিউমার্কেট এলাকার কর্মকার শ্রীকান্ত জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদুল আজহার আগে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরেক কামার বলেন, আগে গ্রামের প্রতিটি এলাকায় কামারশালা থাকলেও এখন এই পেশায় লোক কমে গেছে। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। ঈদ মৌসুমে আয় কিছুটা বেশি হওয়ায় সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং নতুন দা বা চাপাতি তৈরি করতে আকারভেদে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
কামার শালায় আসা নাজমা রহমান জানান, কোরবানির সময় ধারালো ও মানসম্মত সরঞ্জামের গুরুত্ব অনেক। তাই তারা অভিজ্ঞ কামারদের কাছ থেকেই সরঞ্জাম তৈরি ও শান করিয়ে নিচ্ছেন।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, নবাবগঞ্জের কামারপল্লীগুলোতেও তত বাড়ছে ব্যস্ততা। আগুনের লেলিহান শিখা আর হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামারশালাগুলো।
এফপি/অ