সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই আগুন ঝরালেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন। দলীয় ২২ রানে ৯ রান করা আব্দুল্লাহ ফজলকে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। লিটনের অসাধারণ ক্যাচে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ।
এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস। অফসাইডে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও তাসকিনের গতির সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানেন তিনি। ২৪ বলে ১৩ রান করে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।
দুই ওপেনারকে হারিয়ে মাত্র ২৩ রানেই ২ উইকেট হারায় সফরকারী পাকিস্তান। ক্রিজে তখন নতুন করে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম।
প্রথম দিনের শেষ বিকেলে ৬ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান সংগ্রহ করেছিল পাকিস্তান। ফলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তখনও তারা পিছিয়ে ছিল ২৫৭ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাসকিনের এই জোড়া আঘাতের আগে ব্যাট হাতে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন কুমার দাস। দলের বিপর্যয়ের মুখে একাই প্রতিরোধ গড়ে তুলে খেলেন দুর্দান্ত ১২৬ রানের ইনিংস। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় শতক।
১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নেমে একপ্রান্ত আগলে রাখেন লিটন। ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি বাংলাদেশকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেয়। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০ এবং শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৭৮ রানে। শরিফুল ইসলাম ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ ও হাসান আলী বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
এর আগে, টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। শুরুতেই মোহাম্মদ আব্বাসের তোপে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে বিদায় নেন। পরে তানজিদ হাসান তামিম ২৬ ও মুমিনুল হক ২২ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে সব চাপ সামলে লিটনের ব্যাটে ভর করেই লড়াইয়ে ফেরে বাংলাদেশ।
এফপি/অ