সিলেটের ওসমানীনগরে আলোচিত চোরাচালান মামলায় আটক আবুল কালাম আজাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হলেও এখনো শুনানি হয়নি। আগামী ১২ মে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোন রুট ব্যবহার করে এসব অবৈধ মালামাল দেশে আনা হতো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। আটক আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অজ্ঞাতনামা জড়িতদের নামও বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৫ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৪) নামে একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে এসআই (নি.) আশীষ চন্দ্র তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৬০৩ বস্তা ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে আবুল কালাম আজাদকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৮ হাজার ৯০ কেজি জিরা জব্দ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ছিল ৩০ কেজি করে জিরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আবুল কালাম আজাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি তার পলাতক ভাই আব্দুল মুমিনসহ সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় জিরা দেশে এনে বাজারজাত করতেন।
এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানার এসআই আশীষ চন্দ্র বাদী হয়ে আবুল কালাম, তার ভাই আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তবে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম পুলিশ জানলেও রহস্যজনক কারণে এজাহারে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এফপি/অ