বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বলেন, সৎ উদ্দেশ্য ও আদর্শকে ধারণ করেই এই রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে এবং তিনিও ব্যক্তিগতভাবে এমন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রফিকুল আমীন আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। কৃষক ও শ্রমিকরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে এবং সাধারণ মানুষের সুশিক্ষার অধিকারও নিশ্চিত হয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের দল ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে এবং শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য, নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য নয়।’
সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম বক্তব্যে বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে আমার রাজনীতি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা কে, আমাদের নিবন্ধন দেওয়ার বা না দেওয়ার?’ তিনি অভিযোগ করেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং ‘তলে তলে প্যাকেট বিনিময়ের’ মাধ্যমে কিছু দল নিবন্ধন পেয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেন।
ফাতিমা তাসনিম দাবি করেন, তাদের দল যথাযথভাবে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছে ‘দুটি ট্রাক ভরে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি’—তবুও এখন পর্যন্ত নিবন্ধন না পাওয়ায় তারা হতাশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো আনন্দের দিনে নিবন্ধন নিয়ে হাহাকার করতে হচ্ছে বলেও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের এই আচরণের প্রতিফল একদিন তাদের নিজেদের জীবনেই ফিরে আসবে।
অন্যান্য বক্তারাও নিবন্ধন না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের দলকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যেখানে অন্য কিছু দল সহজেই নিবন্ধন পেয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন ধারার রাজনীতির প্রত্যাশা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তাদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করে। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ হাজারো সমর্থক অংশ নেন। দলীয় নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই প্রায় ৪০টি জেলায় এবং শতাধিক উপজেলায় সংগঠন বিস্তার করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফপি/অ