চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সভা-সেমিনার করেছেন ওমর কাজী নামে এক প্রবাসী বিএনপি নেতা। ওই প্রবাসী বিএনপি নেতার অনলাইন জুয়া ও মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে। সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ করে নিজেদের এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখার শপথ নিয়ে জুয়া ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করছেন। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জুয়া ও মাদকবিরোধী জনসচেতনতা।
জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ওমর কাজী নামে ওই প্রবাসী মাস-দুয়েক আগে দেশে আসেন। দেশে এসেই তিনি নিজ এলাকা উপজেলার সরল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করেন। পরবর্তী মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে ওই প্রবাসী কর্মকাণ্ড প্রশংসিত হয়ে উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে নিজেদের পাড়া-মহল্লায় জুয়া ও মাদকবিরোধী সমাবেশ করে নিজেদের এলাকাকে মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করেন এবং মাদককারবারিদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করেন। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ উপজেলার মাদকসম্রাট রশিদ আহমেদ (ওরফে) রইশ্যা ডাকাত, তারেক, শেফালি বড়ুয়া, দিপায়ন বড়ুয়াসহ একাধিক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেন। যার প্রেক্ষিতে উপজেলাজুড়ে মাদককারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একইসাথে বাঁশখালী থানা পুলিশও জুয়া ও মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করেন।
বৈলছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, ‘সরল ইউপির ওই প্রবাসী বিএনপি নেতার মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড এখন বাঁশখালী উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁশখালীর মানুষ এখন মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। আগে সন্ধা হলে যেখানে মাদককারবারিদের রাজত্ব চলত সেখানে সাধারণ মানুষ এখন তাদের খুঁজে বেড়ায়। বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশও জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন যা সত্যিই প্রশংসিত।’
উপজেলার চাম্বলের বাসিন্দা আবদু সবুর বলেন, ‘আগে সন্ধা হলেই এলাকায় মাদকের আখড়া বসত। এখন সেটা অনেকটা কমে গেছে। এলাকার যুব সমাজ অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। গত কয়েকদিনে বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদকবিরোধী সমাবেশ হয়েছে৷ যার কারণে চাম্বলে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছেন। এভাবে চললে শিগগিরই বাঁশখালী হবে একটি মাদকমুক্ত উপজেলা।’
এ বিষয়ে প্রবাসী বিএনপি নেতা ওমর কাজী বলেন, ‘দেশে এসেই দেখলাম এলাকায় দিনদুপুরে মাদক বিক্রি হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে যুবসমাজ সবাই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে এলাকার তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে তাদের পরিবার ও সমাজের সবাইকে নিয়ে মাদক বিরোধী সমাবেশ করি। সমাবেশে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই। যার প্রেক্ষিতে মানুষের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক ও জুয়াকে না বলতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। বর্তমানে পুলিশের সহযোগিতায় বর্তমানে বাঁশখালীতে মাদক ও জুয়া অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতেছে। কয়েকদিনে বড় বড় মাদককারবারিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই প্রচেষ্টা সব সময় অব্যাহত থাকবে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিগগিরই বাঁশখালী একটি মাদকমুক্ত উপজেলায় রুপান্তরিত হবে।’
বাঁশখালীতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবাসী বিএনপি নেতার জুয়া ও মাদকবিরোধী সমাবেশ।
এফপি/জেএস