Dhaka, Friday | 1 May 2026
         
English Edition
   
Epaper | Friday | 1 May 2026 | English
ড. ইউনূসের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, মার্কিনিদের মন জয়ে শ্রমিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে প্রজ্ঞাপন
৪৮ ঘণ্টার ভেতর পুরো দেশে তাণ্ডব চালাবে কালবৈশাখী
বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা, এপ্রিলেই মব হামলায় নিহত ২১
বিশ্বকাপ না খেলা ‘বড় ভুল’ ছিল বাংলাদেশের
শিরোনাম:

জানাজা শেষে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম  (ভিজিটর : ৫৯)

বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোংলা সরকারি কবরস্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।

জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাচান চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দাফন সম্পন্ন হলেও মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামে শোকের মাতম থামেনি। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি-নাতনি প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও তিন ছেলে জীবিত থাকলেও পরিবারের বড় একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়া বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখও।

অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকে নিহত হয়েছেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ার বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।

স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারানো আশরাফুল আলম জনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এক নিমেষেই স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি এখন কার মুখ চেয়ে বাঁচব?

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হলেও এটি এখনো চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। ফলে সরু রাস্তায় প্রায়ই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি মোংলায় ফিরছিল। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, যা এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়।

এফপি/জেএস
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝