চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটিত সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন ময়েনকে আসামি করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জীবননগর উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা ১২ টায় জীবননগর প্রেসক্লাবে জীবননগর উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন ময়েনকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় মঈন উদ্দীন ময়েন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তারপরও তাকে আসামি করা হয়েছে।
বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিন সুটিয়া স্কুল মাঠে হাসাদাহর জসিমের ছেলে মেহেদী হাসানকে মারধর করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে হাসাদাহ বাজারে বসার কথা থাকলেও সেখানে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে জামায়াত নেতা ইসরাইলের নেতৃত্ব মেহেদীর বাড়িতে হামলা করা হয়। পরে মেহেদীদের প্রতিরোধে কয়েকজন আহত হন।
বিএনপির দাবি, পরিস্থিতি জানার পর মঈন উদ্দীন ময়েনসহ নেতারা প্রথমে আহতদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরবর্তীতে এলাকায় উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে গেলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং প্রশাসনের আশ্বাসে তারা ফিরে আসেন।
এদিকে হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় মঈন উদ্দীন ময়েনকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অযথা হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। না হলো দলীয় ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলতাফ পারভেজ, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সারোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এফপি/জেএস