যাকাত ইসলামের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এটি সঠিকভাবে আদায় ও পরিকল্পিতভাবে বণ্টন করা গেলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য অনেকাংশে দূর করা সম্ভব এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদার।
তিনি বলেন, যাকাতকে শুধু ধর্মীয় অনুশাসন হিসেবে নয়, বরং একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপ দিতে পারলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে “দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যশোরে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জেম, আলেম-ওলামা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ শাহ আলম। স্বাগত বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, যশোরের উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম বলেন, সমাজে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণে যাকাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানদের ও নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের উদ্যোগকে জোরদার করা গেলে যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে ইমাম-খতিব ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে যাকাত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিত্তবানদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত ও বুদ্ধিদীপ্ত যাকাত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হলে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের মাস্টার ট্রেইনার মোহাম্মদ আশরাফ আলী। যাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন যশোর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাফেজ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।
এছাড়া বক্তব্য দেন এবিএম রফিকুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক রিজওনাল হেড ফকির আক্তারুল আলম, নীলগঞ্জ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা রুহুল আমিনসহ অন্যান্য বক্তারা।
বক্তারা বলেন, যাকাত কেবল দান নয় এটি একটি টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণের মাধ্যমে যাকাত বণ্টন করা গেলে দরিদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা সহায়তাপ্রার্থী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও সমাজের বিত্তবানদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রর ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ মইনুদ্দীন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এফপি/অ