মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১৪ বছর বয়সী কিশোর অটোরিকশা চালক শাকিল হাদারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরহায়দ্রাবাদ গ্রামের বাসিন্দা শাকিল হাদারী গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে চরকিশোরগঞ্জ এলাকার নদীর ধারের একটি চর থেকে শাকিলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাকিলকে চরকিশোরগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীর চরে ফেলে রাখা হয়। এরপর অটোরিকশাটি বিভিন্ন অংশে খুলে নারায়ণগঞ্জে বিক্রির চেষ্টা চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মুন্সীগঞ্জের উত্তর চর মধুরা এলাকার রবি আলী শেখের ছেলে রাজন শেখ (২৫), উত্তর চর মশুরা এলাকার নজরুল সরকারের ছেলে ইমরান সরকার (১৯), একই এলাকার জবেদ আলী সিকদারের ছেলে শরীফ সুলতান আফসু (২৫) এবং দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীন গাজীর ছেলে মো. ইউসুফ গাজী (৬০)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে খণ্ডিত অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এফপি/জেএস