আর মাত্র ৫ দিন পরেই সংসদ নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নীলফামারী-১ আসনের ভোটের প্রচারনা। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন দল তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচারনায় নেমে পড়ছেন।
সন্ধার পরেই প্রায় সকল দলেই খন্ড খন্ড মিছিল ও পথসভা করছে। প্রার্থীরাও রাতদিন এক করে প্রচারনা করে আসছেন। এক সময় জাতীয় পার্টির ঘাটি বলে পরিচিত আসনটিতে এবার লাঙ্গলের অবস্থা ততটা ভালোনা। আবার বিএনপি এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী তুহিনকে মনোনয়ন না দিয়ে তাদের জোটসঙ্গী জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকে এখানে মনোনয়ন দিয়েছেন। জমিয়তের প্রতিক খেজুর গাছ। প্রথমদিকে জমিয়ত কিছুটা ব্যকফুটে থাকলেও এখন সেটা কাটিয়ে উঠেছেন দলটি।
এই আসনটিত জামায়াত প্রার্থীর সাথে তুমুল লড়াই হবে খেজুর গাছের। তবে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে লাঙ্গলের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বিশেষ করে হিন্দু ও আওয়ামী ভোটাররা লাঙ্গলকে ভোট দিলে ভোটের সমীকরন পাল্টে যেতে পারে।
নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার এখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে খেজুর গাছ প্রতিকের মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করছেন কর্ণেল তছলিম উদ্দিন। আর গাভী প্রতিকে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি। ইসলামি আন্দোলন থেকে লড়ছেন মাওলানা আব্দুল জলিল। আটজন প্রার্থী থাকলেও মুল লড়াই হবে দ্বিমুখী। জামায়াতের সাথে লড়াই হবে বিএনপি জোটের জমিয়তের। তবে লাঙ্গল ও থাকবে লড়াইয়ে। দিন যতই যাচ্ছে লাঙ্গলের ভোট ততই বাড়ছে। হিন্দু ও আওয়ামী সমর্থিত ভোটারা যদি লাঙ্গলকে ভোট দেন তবে ভোটের সমীকরন পাল্টে যেতে পারে। অপরদিকে সমানতালে লড়ছে দাড়িপাল্লা ও খেজুরগাছ।
জামায়াত আর জমিয়তের দুই প্রার্থী ক্লিন ইমেজের। জয়ের ব্যাপারে দুই দলেই আশাবাদী। জামায়াতের রয়েছে বিপুল কর্মী বাহিনী। অপরদিকে বিএনপির রয়েছে ব্যাপক ব্যাংক ভোট। বিএনপির সকল ভোটের পাশাপাশি হিন্দু ও আওয়ামী সমর্থিত ভোটাররা খেজুরগাছকে ভোট দিলে বিজয় অনেকটা সহজ হবে জোট প্রার্থীর। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দাঁড়িপাল্লা ও খেজুরগাছের লড়াই হবে সমানে সমান। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। একদিকে জামায়াতের ব্যাংক ভোটের পাশাপাশি তাদের কর্মীবাহিনী দিনরাত পরিশ্রম করছেন তাদের প্রার্থীকে জেতাতে। অপরদিকে জমিয়তও চেষ্টা করছে হিন্দুভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে। কারন হিন্দু ভোটাররা ভোট দিলে তাদের সিংহভাগই পাবে খেজুরগাছ।
ভোটাররা বলেন, এবার দাড়িপাল্লা ও খেজুরগাছ থেকেই এমপি নির্বাচিত হবেন। গ্রামগঞ্জে দাড়িপাল্লা এগিয়ে থাকলেও শহর অঞ্চলে রয়েছে খেজুর গাছের প্রভাব। তাই দেখার অপেক্ষা কার গলায় উঠে বিজয়ের মালা।
এফপি/জেএস