পাহাড়ের সর্পিলাকার পথ‚ সমুদ্রের বিশালতা আর সহকর্মীদের প্রাণোচ্ছল হাসিতে সম্পন্ন হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির বার্ষিক ট্যুর। দুই দিনব্যাপী এই ট্যুরে আমরা—ছুয়ে দেখেছি বিশাল সমুদ্রের নীলাভ জলরাশি আর পাহাড়ের অপার সৌন্দর্যের মাঝে লুকিয়ে থাকা রহস্যময়তা। ফিরেছি নতুন সব গল্প ও এক অনন্য ভ্রাতৃত্বের বন্ধন-কে সাথে নিয়ে।
আমাদের ভ্রমণের একদম প্রথমে সোমবার রাতে (২৬ জানুয়ারি) আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসে করে রওয়ানা দিই। পরদিন (২৭ জানুয়ারি) সকালে গিয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌছাই। মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া নেমে সকালের নাস্তা সম্পন্ন করে নতুন আরেকটি বাস নিয়ে রওয়ানা হই বান্দরবনের উদ্দেশ্যে।
আকাবাকা রাস্তা‚ পাহাড়ি ঢাল—একসাথে ভয় ও মনের মাধুরি মিলেমিশে একাকার। আমরা বান্দরবনের সেই সবুজে ঘেরা সর্পিলাকার ঢাল বেয়ে বাসে করে পৌছাই মিরিঞ্জা ভ্যালির সামনে। ধুলোবালি আর রোদের মধ্য দিয়ে আমরা ঢাল বেয়ে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে উঠি। চারিদিকে সবুজের মেলা আর উঁচু-নীচু শত-শত পাহাড়। দূরের অনেক পাহাড়ে বসতবাড়ি‚ বিদ্যালয় দেখা যাচ্ছে।
মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে নেমে বিশ্রাম নিয়ে আমরা আবার লা-তং ভ্যালিতে উঠি। লা-তং থেকে নেমেই ‘চাঁদের গাড়ি’তে করে আলীকদম হয়ে আমরা যাই আলীর গুহার পথে। মাতামুহুরি নদীর কোলঘেষা এক শীতল ঝিরি ধরে হেটে-হেটে পৌছাই আলীর গুহায়। আলীর গুহার রহস্যময়তা অবলোকন করে আমরা মিরিঞ্জা ভ্যালির সামনে গিয়ে জলখাবার খাই।
সেদিন বান্দরবন থেকে কক্সবাজার এসে হোটেলে চেক-ইন করি। রাত্রিবেলায় পূর্ণিমার আলোয় সমুদ্রবিলাস, লাবনী পয়েন্ট-কে ঘিরে পর্যটকদের কোলাহল আর সমুদ্রের গর্জনের মাঝে থাকা নীরবতা অবলোকন করি। পূর্ণিমার আলোয় ভরে উঠেছে কক্সবাজারের চারিপাশ। মধ্যরাত্রিতে হেটে-হেটে হোটেলে ফিরি।
পরদিন সকালে নাস্তা সেরেই আমরা রওয়ানা হই টেকনাফের উদ্দেশ্যে। মেরিন-ড্রাইভ‚ ঝাউবন আর বিস্তীর্ণ মাঠ দেখতে দেখতে চলে যাই টেকনাফের সমুদ্র সৈকতে। রোদ ঝলমলে সমুদ্র সৈকতে কিছুক্ষণ ঘুরাফেরা করে দুপুরের খাবার সম্পন্ন করি সমুদ্রতীরের খোলামেলা এক রেস্তোরায়। এরপর অনেকে নেমে পড়ে সমুদ্রের মাঝে। সমুদ্রস্নান শেষে ঝলমলে সূর্যটা দেখতে-দেখতে সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
সন্ধ্যা নেমে এলে আমরা সাবরাং জিরো পয়েন্টের দিকে গিয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন সমুদ্রের গর্জন শুনি। সমুদ্রের বিশালতার মাঝে আমাদের নশ্বর জীবনের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র সব ব্যাথা, আক্ষেপ অতি নগণ্য। সাবরাং জিরো পয়েন্ট থেকে আমরা হোটেলে ফিরে আসি। রাতের খাবার সম্পন্ন করে হোটেলে চেক-আউট করে আমরা ফিরে আসি চিরচেনা ক্যাম্পাসের আঙ্গিণায়।
ভ্রমণ মানুষেকে নতুনত্বের শিক্ষা দেয়। বৈচিত্রময় পৃথিবীর পরতে-পরতে লুকিয়ে আছে নতুন সব গল্প, রয়েছে ভিন্ন-ভিন্ন বাক। প্রকৃতির অকল্পনীয় সব বাকে-বাকে ঘুরে-ফিরে আমরা যে পথের পাঁচালী আহরণ করি—সেগুলোতে মনের মাধুরি মিশিয়ে আনমনে রচনা করা যায় শত-শত পঙক্তি!
এফপি/এমআই