খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থ মাওলানা আবু সাইদ নির্বাচনে লিফলেট বিতরন ও প্রচারকালে মহিলা কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে। এ হামলার জন্য ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে দাকোপ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের এজেন্ট আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের ১২-১৩ জন মহিলা কর্মী দাকোপ উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামে যায়। তারা হাতপাখার পক্ষে প্রচার-প্রচারণাকালে স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন, মোঃ হরমুজ শেখ, আমানুল্লাহ, নাজমুল শেখ, ফয়জুল্লাহ শেখ, সানা উল্লাহ শেখসহ কয়েকজন জামায়াত কর্মী বাঁধা দেয়।
তিনি আরো বলেন, এসময়ে মোঃ হরমুজ শেখ তার বাড়ীতে আমাদের কর্মী রোজিনা বেগমসহ সবাইকে বসতে দিলে উল্লেখিত অন্যান্যরা এসে মহিলাদের ঘরে আটকিয়ে অশ্রব্য ভাষায় গালিগালাজ সহ মান-মর্যাদা ক্ষুন্নকর কথা বার্তা বলতে থাকে।
দাকোপ থানায় দায়েরকৃত লিখিতি অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন যে- এসময়ে তারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দল সম্পর্কে কটূক্তি করে। কথা বার্তার একপর্যায়ে বিবাদীরা জ্বালানীর কাজে ব্যবহৃত বড়ে (গোবরে তৈরী লাঠি-যা জালানী কাজে ব্যবহৃত হয়) এবং লাঠিসোটা দ্বারা রোজিনা বেগম সহ তাহার সফর সঙ্গী ১১-১২ জন মহিলাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে তাহাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান ফোলা জখম সৃষ্টি করে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে- মারপিটে রোজিনা বেগমসহ তাহার সফর সঙ্গী ১১-১২ জন মহিলারা গুরুতর আহত হয়ে পড়লে বিবাদীদের পায়ে থাকা জুতা দ্বারা রোজিনা বেগমসহ সঙ্গীদের মারধর করে।
জানতে চাইলে আহত রোজিনা বেগম বলেন- তারা শুধু মারধোর করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। তারা আমাদের মহিলাদের গলায়, হাতে, কানে থাকা পরিধেয় স্বর্নালংকার খুলে নেয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। তাদের মারধোরের কারণে আমাদের কাপড় ছিড়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার শোরগোল আওয়াজে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাকোপ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এসে আমাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
খুলনা-১ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে রোজিনা বেগমের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে রোজিনা বেগম দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি আছেন বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, থানায় লিখিত এবং নির্বাচন কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনা সর্ম্পকে জামায়াতে ইসলামীর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিক হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।
এফপি/অ