আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া–মহেশখালী) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী ও সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার হাটবাজার, সড়ক-মহল্লা ও উপকূলীয় জনপদ।
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের মধ্যে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে আরও তিনজন প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। তারা হলেন—জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউল হক এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী এস এম রোকুনুজ্জামান।
প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চালাচ্ছেন ব্যাপক গণসংযোগ। ডোর টু ডোর হাউস ক্যাম্পেইন, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন। প্রচারণায় উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। পোস্টার-ব্যানার, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চলছে পুরোদমে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন। অনেক ভোটারের মতে, যিনি এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাকেই তারা ভোট দিতে আগ্রহী।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে কুতুবদিয়ায় নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার গতি ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ। মাঠের পরিস্থিতি ও জনমত বিশ্লেষণে এই আসনে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এফপি/জেএস