কুড়িগ্রামের উলিপুরে টানা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কোথাও চারার রং হলদে হয়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। বীজতলা নষ্ট হলে বোরো আবাদের সময় ধানের চারার সংকট দেখা দিতে পারে মনে করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার একটি পৌরসভা সহ ১৩টি ইউনিয়নে হাইব্রিড, উফসি ও স্থানীয় জাতের বোরোধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩'শ ৬ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১২'শ ৪৫ হেক্টর। গত কয়েকদিনের বৈরি আবহাওয়ায় বোরোর বীজতলা গুলোয় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বীজতলা দেখা গেছে। বোরো ধানের বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। আবার অনেক বীজতলার গাছ গজাচ্ছে না, বীজতলাতেই অঙ্কুর মরে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সাদাটে হয়ে গেছে চারা গাছ। কেউ কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন বীজতলা একটু রক্ষার জন্য। কৃষকরা বলছেন, এমনিতেই বীজ, সার ও জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় অনেক হিসেব নিকেশ করে চলতে হচ্ছে তাদের। তাই ভাল ফসল পেতে ভাল বীজ বা ভাল মানের বোরো বীজতলার প্রয়োজন। তাই বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করে পরিচর্যা শুরু করেন। চারা গাছ একটু বড় হতে না হতেই গত কয়েক দিনের ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীতে বোরো বীজতলার গাছগুলো ফ্যাকাসে রঙ ধারণ করেছে। শীতের তীব্রতায় বীজতলার অনেক চারাগাছ মরে যেতে শুরু করেছে। এতে করে বোরো আবাদের সময় ধানের চারার সংকট দেখা দিলে বাড়তি খরচ দিয়ে ধান রোপণ করতে হবে।
উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের কৃষক আইনুল ইসলাম বলেন, বোরো ধানের বীজতলার অর্ধেকই শীত ও কুয়াশায় বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নতুন করে আবার বীজতলা তৈরি করতে হবে। যারা পৌষের শুরুর দিকে বীজতলায় বীজ ফেলেছে, তারা বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। কুয়াশা কমছে না, তাই দুশ্চিন্তায় আছি। একই এলাকার কৃষক জাবেদ আলী বলেন, তীব্র শীতে বীজতলার চারা মরে যাচ্ছে। এ ছাড়া চারা লালচে রঙের হয়ে গেছে। বড়ও হচ্ছে না। এমন আবহাওয়া যদি আরও কয়েক দিন থাকে, তাহলে আবারও বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। চাষের মৌসুমে চারা না-ও পাওয়া যেতে পারে।
থেতরাই ইউনিয়নের হারুনেফড়া এলাকার কৃষক আশরাফ আলী বলেন, গত কয়েক দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরোর বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছি। নিয়মিত সেচ দেয়ার পরেও বীজতলা পূর্বের ন্যায় ফিরে আসছেনা। সময়মতো চারা না পেলে বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই ইউনিয়নের কিশোরপুর এলাকার চাষি এরশাদুল ইসলাম বলেন, বোরো বীজ ফেলেছি কিন্তু শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে বীজ ভালভাবে গজাচ্ছে না। আবার অনেক বীজ গজালেও হলদে বর্ণের হয়ে মারা যাচ্ছে। এখন বীজতলার যে অবস্থা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরিচর্যার পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু শীত আর কুয়াশায় বীজতলার কিছুটা সমস্যা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব-ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি বোরো আবাদে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।
এফপি/অ