Dhaka, Friday | 2 January 2026
         
English Edition
   
Epaper | Friday | 2 January 2026 | English
বছরের প্রথম সুপারমুন দেখা যাবে শনিবার
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারির মনোনয়ন বাতিল
ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন
রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে আজ বই বিতরণ, তবে নেই কোনো উৎসব
শিরোনাম:

‎ডামুড্যায় তিন ফসলি জমি দখল করে মাছের ঘের, হুমকিতে শতাধিক কৃষক ‎

প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম  (ভিজিটর : ৫)

‎শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় অন্তত ১০০ জন কৃষকের তিন ফসলি জমি দখল করে মাছের ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র এক্সকাভেটর দিয়ে রাতের আঁধারে জমির মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। জমি দখলে বাধা দিতে গেলে কৃষকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় ঘের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ধান ও মরিচ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কয়েকশ একর জমিতে অন্তত ২০০ কৃষক পরিবার মরিচ ও আউশ ধান চাষ করেন। প্রতিবছর এসব জমিতে প্রায় ১০ হাজার মণ মরিচ এবং ৫ হাজার মণ আউশ ধান উৎপাদন হয়। সম্প্রতি ওই জমিগুলোতে প্রভাবশালী রিপন উঝা ও লাজুক নামে দুই ব্যক্তি মাছের ঘের করার উদ্যোগ নেন।
‎অভিযোগ রয়েছে, তারা কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা শুরু করেন। জমির মাঝখানে গভীরভাবে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বাঁধ। দারুল আমান ইউনিয়নের কাইলারা গ্রামে লিটন চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে এবং কনেশ্বর ইউনিয়নের ছৈয়াদ বোস্তা এলাকায় নান্নু ছৈয়ালের বাড়ির পাশে দিনরাত পাঁচটি এক্সকাভেটর দিয়ে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
‎কৃষকদের অভিযোগ, ঘের নির্মাণের ফলে পুরো এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে কয়েক হাজার মানুষের কৃষিনির্ভর জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে সেখানে কোনো ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না।
‎দারুল আমান ইউনিয়নের কৃষক আলিম উদ্দিন বেপারী বলেন, রিপন উঝা জোর করে আমার জমির মাটি কেটে ফেলতেছে। আমি জমি দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে হুমকি দিচ্ছে। এই জমি নিলে আমি আর চাষাবাদ করতে পারবো না। পরিবার নিয়ে বাঁচার একমাত্র উপায় এই জমি।
‎কনেশ্বর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমি এই জমিতে মরিচ, ধান আর শাকসবজি চাষ করে সংসার চালাই। আমার ২০ শতক জমি লাজুক দখল করে ঘের কাটতেছে। এখন আমরা কীভাবে বাঁচবো? আমি সরকারের কাছে আমার জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানাই।
‎আরেক কৃষক কালাম বলেন, রাতের আধারে জমি দখল করে মাটি কাটতেছে। বাধা দিলেও শোনে না। বাঁধ দেওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি জমে যাবে, আশপাশের জমিতে আর ফসল ফলানো যাবে না। ধারদেনা করে ফসল করি, এখন সব শেষ হয়ে যাবে।
‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভেকু মালিক লাজুক বলেন, জোরপূর্বক কিছুই করা হচ্ছে না। যাদের জমি দরকার, তাদের সঙ্গে ম্যানেজ করেই লিজ নেওয়া হয়েছে। কৃষকরা নিজেরাই লিজ দিয়েছে।
‎প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয়টা রিপন ভাই দেখছে।
‎এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অপরাধ। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফপি/জেএস
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
🔝