| শিরোনাম: |

নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়কে রাজধানীর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আঁতুড়ঘর বলা হয়। কার্যালয়টিকে ঘিরে রাজনৈতিক আড্ডায় মুখোর থাকত পল্টনের অলিগলি। স্বাধীনতার পর কয়েক যুগ এখান থেকেই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
গতকাল কার্যালয়টির চিরচেনা সেই রূপ দেখা যায়নি। ছিল না আড্ডা আর উন্মাদনার রাজকথন। যা ছিল তা শুধুই বেদনার সুর। তাতে আক্রান্ত হয়েছে দলের নেতা-কর্মীসহ দেশের সাধারণ মানুষ। আর সেই সুর ফুটে উঠেছে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনন্ত পথের আয়োজন দলের নেতা-কর্মী ও পথচারীদের স্মৃতিচারণা শোকবইয়ের পাতায় পাতায়।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানী কাকরাইল মোড়, ফকিরাপুল, আশপাশের এলাকা ঘুরে ও বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থান করে এসব চিত্র দেখা যায়। কার্যালয়ে খোলা শোকবইয়ে শোক আক্রান্ত মানুষ বেগম জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাক্ষর করছেন। বইতে লেখা অধিকাংশ কর্মী থেকে সাধারণ মানুষের অভিন্ন ভাষা-এরকম বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হারিয়ে আমরা শোকাহত। তাঁর শূন্যস্থান পূরণ কখনো হবে না। মহান সৃষ্টিকর্তা ওনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
প্রত্যন্ত জেলাশহর থেকে ছুটে আসা পতেঙ্গা থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইাসলাম রানা শোকবইয়ে লেখেন, ‘আমি শোকাহত, মর্মাহত’।
এম হাবিবুর রহমান মিন্টু নামের এক লোক লেখেন, ‘আমরা আমাদের অভিভাবকশূন্য হয়ে গেলাম। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব গুনাহ মাফ করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করিও মাবুদ।’
চট্টগ্রাম মহানগর তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন সিকদার (সাবু) লেখেন, ‘শোকাহত, মর্মাহত, অপূরণীয় ক্ষতি।’
আন্তর্জাতিক কাবাডি রেফারি এস নয়ন আতিক লেখেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক অবদান রেখে গেছেন। আপনার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।’ সাভার থেকে আসা হাবিব নামের একজন লেখেন, ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া। আপনার প্রয়াণ আমাদের জন্য অপূরণীয়।’ এর আগে মঙ্গলবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল রাষ্ট্রীয় শোক থাকলেও ছোট-বড় কোনো ব্যবসায়ী দোকান খোলেননি।
এফপি/অ