Dhaka, Monday | 11 May 2026
         
English Edition
   
Epaper | Monday | 11 May 2026 | English
আমরা নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী
পদত্যাগ করলেন ঢাবির সহকারী প্রক্টর মোনামি
মব মোকাবিলায় আইন সংশোধন বা নতুন আইন হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দল ঘোষণা
শিরোনাম:

চট্টগ্রামে বছরে ওয়াসার শত কোটি টাকার পানি অপচয়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:২৭ পিএম  (ভিজিটর : ১৩২)

চট্টগ্রাম শহরের রাস্তায় অনেক সময় দেখা যায় পানির ধারা ঝরছে যেন কোনো ঝরনা থেকে নেমেছে। তবে এটি প্রকৃতপক্ষে ওয়াসার লিকেজ হওয়া পাইপলাইনের পানি। মিমি সুপার মার্কেটের পাশ, হালিশহরের ছদু চৌধুরী সড়কসহ নগরের নানা জায়গায় এভাবে দিনরাত পানি নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্নবার ওয়াসাকে জানানো হলেও প্রতিকার মেলেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট হওয়ার পর শীঘ্রই মেরামত করা হয়।

নগরের প্রায় প্রতিটি এলাকায় পাইপ ফুটে প্রতিদিন পৌনে দুই কোটি লিটার পানির অপচয় হচ্ছে। বছরে এটি সাড়ে ৬০০ কোটি লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই নষ্ট পানি মেরামতের জন্যও কোটি টাকার খরচ হচ্ছে। ওয়াসার হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদিত পানির ২৬ শতাংশই কার্যত রাজস্ববিহীন। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ ফুটো থেকে নষ্ট হচ্ছে, বাকিটা চুরি, অবৈধ সংযোগ বা মিটার কারসাজির মাধ্যমে হারাচ্ছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, “কারিগরি ত্রুটির সহনীয় সীমা ৫ শতাংশ। কিন্তু ২৬ শতাংশ অপচয় অশনিসংকেত। রাজস্ববিহীন পানির এত বড় অংশ, যার মাধ্যমে চোরাই সংযোগ ও অবৈধ ব্যবস্থাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী জানান, ওয়াসা একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও দুর্নীতির প্রভাব এত গভীর যে প্রতিদিনের উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে লুটপাট হচ্ছে। জবাবদিহি না থাকায় এই অব্যবস্থাপনায় কোন আশ্চর্য হওয়ার বিষয় নেই।

ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, রাজস্ববিহীন পানি শূন্যের কোঠায় নামাতে কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই ৩ হাজার স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে এবং ৭০০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৩৮৩ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইনের কাজ চলমান। তবে কত সময়ের মধ্যে অপচয় পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রামে পানির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই অপচয়, অনিয়ম ও অপ্রতুল রক্ষণাবেক্ষণের ফলে শহরের বড় অংশে পানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত পদক্ষেপ, দক্ষ প্রশাসন এবং জবাবদিহি ছাড়া এই বিপুল অপচয় বন্ধ করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের জন্য শহরের পানি সংরক্ষণের এ সমস্যা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এফপি/রাজ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝