প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ পিএম (ভিজিটর : ১৬)
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পূজার উৎসবে চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নগরীর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগামী ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে পৌঁছে জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুরো চট্টগ্রাম প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সম্প্রীতি, সাম্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমীর দিনে প্রধানমন্ত্রী সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চট্টগ্রামে আসছেন। তাকে একনজর দেখতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
এ সময় মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন করেন
একই দিন সকালে পূজামণ্ডপটি পৃথকভাবে পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে জেএম সেন হল ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং জেলা প্রশাসনের একাধিক দল নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করে। মণ্ডপ এলাকায় অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত জনবল, গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজা চলাকালে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য এবং টহল দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখলে যেকোনো অপশক্তিকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে এবং উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে।