কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রায়টা-মহিষকুন্ডি নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয়দের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙনকবলিত স্থান থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব এখন মাত্র ৪০-৫০ মিটার।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় রায়টা-মহিষকুন্ডি নদী রক্ষা বেড়িবাঁধসংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীতীরবর্তী রায়টা-ফয়জুল্লাহপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর আগেও এই অঞ্চলে নদীভাঙনে শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
বর্তমানে ভাঙনকবলিত স্থান থেকে নদী রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৪০-৫০ মিটার, কোথাও কোথাও এর চেয়েও কম। ফলে নদীতীরবর্তী বসতবাড়িগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে অনেকেই বসতভিটা হারিয়েছেন। কেউ কেউ শেষ সম্বল রক্ষায় নিজ উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আফতাবুল সরদার বলেন, “পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার বাড়ির পেছনের ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাড়ির সব মালামাল সরিয়ে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকি অংশটুকুও নদীতে চলে যেতে পারে।”
ভাঙনকবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। বাড়ি ভেঙে যাওয়ার চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এটুকু না থাকলে সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবিরাজ বলেন, নদী রক্ষা বাঁধসংলগ্ন প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে আফতাবুল, টিক্কা, নাজিম, কালু, মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পেছনের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরেই ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধের পাশের বিভিন্ন স্থান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীতীর রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি নদী রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কুষ্টিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ফয়জুল্লাহপুরে নদীভাঙনের বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদ জানানো হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, “নদীভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ অঞ্চলটি আগেও ভাঙনের শিকার হয়েছিল। আমরা একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটি অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
এফপি/র