Dhaka, Monday | 13 July 2026
         
English Edition
   
Epaper | Monday | 13 July 2026 | English
বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্থগিত হবে কি এইচএসসি পরীক্ষা? সিদ্ধান্ত জানাল বোর্ড
২৫ বছর পূরণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন সুবিধা
প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী
শিরোনাম:

৭ জেলায় পানিবন্দী লাখো পরিবার, মৃত্যু বেড়ে ৫১

প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৫ এএম  (ভিজিটর : ৩০)

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৫১ জন এবং আহত হয়েছে ৩৯ জন। 

গতকাল দুপুরে (১২টা পর্যন্ত) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাতটি জেলা হলো- খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৫১ জন এবং আহত হয়েছে ৩৯ জন। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা আংশিকভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় নিহত হয়েছে ১৩ জন এবং আহত হয়েছে ১২ জন। সেখানে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনা ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। 

কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ মোট মারা গেছে ২৮ জন, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে ২৪ জন, যার মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, একজন এখনো নিখোঁজ। জেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছে। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
 
বান্দরবানের সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮ হাজার ৩৫০। সেখানে মারা গেছে ছয়জন এবং আহত হয়েছে দুজন। জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছে। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রাঙামাটির ৯টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১ হাজার ৪৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪। সেখানে তিনজন নিহত হয়েছে। জেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছে। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। 

খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪১৭। সেখানে একজন আহত হয়েছে। জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছে। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। 

মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৭ হাজার ৩০৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৪৪। সেখানে একজন নিহত হয়েছে। জেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছে। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। 

হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৬ হাজার ৪৪৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ হাজার ১৪০। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কেউ আশ্রয় নেননি। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম : বন্যায় শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১০৯ কোটি টাকা। মোট ১২ হাজার ২৫১টি পুকুর, দিঘি ও খামার  ভেসে গেছে। যার মোট আয়তন ৪ হাজার ১০৬ হেক্টর। পুকুর, দিঘি ছাড়াও ৩২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুকুর, দিঘি ও ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মাছ বের হয়ে অনেকটা মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১০৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেট : সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে পানি। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সবকটি নদীর পানি কমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে এখনো প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার কোথাও নদীভাঙন বা বন্যার খবর পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে মৌলভীবাজারে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। 

খুলনা : খুলনায় টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও জোয়ারে পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলে এখনো হাঁটু সমান পানি জমে আছে। অনেকের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। দিঘলিয়া, রূপসা, ডুমুরিয়া, ফুলতলা উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে ছোটবড় পুকুর ও প্রায় ২৮২ হেক্টর মাছের ঘের।

নেত্রকোনা : ভারী বর্ষণ আর টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নেত্রকোনার নদনদীর পনি। তার মধ্যে জেলার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার আন্তসীমান্ত সোমেশ্বরী নদীর শাখা নদী উপদাখালি ডাকবাংলা পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন : বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উল্লিখিত জেলাগুলোতে ৯০টি পয়েন্টে বিজিবির সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এফপি/অ
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: news@thefinancialpostbd.com, ad@thefinancialpostbd.com, hr@thefinancialpostbd.com
...
🔝