ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর–বরিশাল মহাসড়কের দক্ষিণ পাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচ গ্রামের লোকজনের মধ্যে প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন মোল্লা (২৫) নামে একজন যুবক নিহত হন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা (৩০ জুন) সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ সুমনকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে অবস্থার অবনতি হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। এতে প্রায় ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাগনে এবাদুলকে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দার ও কয়েকজন যুবক মারধর করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা হলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে এতে পাঁচ গ্রামের লোকজন জড়িয়ে পড়ে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ সময় মহাসড়কে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
এফপি/র