চাঁদপুর আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি গোলাম আজম (৪৫) পুনরায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মিজি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর ৩১(ক), ৩১(খ), ৩১(ঘ), ৩৩ ও ৩৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নেওয়ার পর আদালত গোলাম আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরোয়ানা কার্যকরের লক্ষ্যে গত ১৫ জুন পল্টন থানা পুলিশের একটি দল পুরানা পল্টনের ৫৫/১ ইসলাম এস্টেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত রিকাব ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় গোলাম আজমকে আটক করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আটকের পর আসরের নামাজের সময় হলে তিনি পুলিশ সদস্যদের কাছে নামাজ আদায়ের সুযোগ চান। মানবিক বিবেচনায় পুলিশ তাকে সেই সুযোগ দেয়। পরে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ শুরু করেন এবং নিজেই ইমামতি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম রাকাত শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় রাকাতের সিজদা থেকে উঠে তিনি হঠাৎ করেই স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পল্টন থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসামি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে।
পরবর্তীতে বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৮টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ঢাকার মাদারটেকের নন্দীপাড়া এলাকায় তার বাসা থেকে গোলাম আজমকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ও ম্যানপাওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অতীতে মানবপাচার-সংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফপি/এমআই