সারা বিশ্বের মতো ফুটবল নিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর। দর্শকদের উন্মাদনা চোখে পড়তে শুরু করেছে। সারাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মেতে থাকলেও এরমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া দলের সমর্থক আবু কাউছার মিন্টু মিয়া এক পতাকা টানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। দলকে ভালোবেসে তিনি এবার পাঁচ কিলোমিটার দৈঘ্যের্র দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা টানিয়েছেন। দলের প্রতি মিন্টুর অনুরাগ দেখে এলাকাবাসীরা হয়েছেন অনেকটাই হতবাক।
জীবিকার তাগিদে ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা আবু কাউছার মিন্টু। পরে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটি তিনি সেদেশের গ্যালারিতে বসেই দেখেন। এসময় দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের তৎকালিন আলোচিত খেলোয়াড় আঞ্জুয়ানের ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখে তিনি মুগ্ধ হন। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের ভক্ত হয়ে যান তিনি।
পরে ২০১৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ সময় প্রবাস থেকে ফিরলেও দক্ষিণ কোরিয়া দলের প্রতি বিন্দু মাত্র ভালোবাসা কমেনি তার।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে রাজধানী ঢাকা বিমান বন্দর ওভার ব্রিজ এলাকায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টানিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু পূর্বের সেই পতাকা নিয়ে আত্মতুষ্টি হয়নি তার। তাই ২০২২ বিশ্ব কাপের আসরের আগেই নিজের বাড়ি খাল্লা থেকে পাশের ইউনিয়ন তেজখালি পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা টানিয়ে ছিলেন। এবার আরেকটু বাড়িয়ে ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পতাকা টানিয়েছেন তিনি।
এবছর পতাকাটি খাল্লা বিষ্ণুরামপুর থেক বাহাদুর হয়ে খাল্লা পশ্চিম পাড়া সড়ক জুরে টানিয়েছেন। ফুটবল দলের প্রতি অনুরোধ দেখে অনেকেই তার দলকে সমর্থন জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের সাফল্য কামনা করেন।
রফিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় প্রতিবেশী যুবক জানান, মিন্টু সাহেব কোরিয়া থেকে আসার পর থেকেই ওই দেশটির প্রতি তার টান বেড়ে যায়। এরপর থেকে কোরিয়ার জন্য কিছু করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকায় ১ কিঃমিঃ দীর্ঘ একটি কোরিয়ান পতাকা টানিয়ে দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয় যুবক রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালে ৪ কিলোমিটার করেন পৈত্রিক জমি বিক্রি করে। সেখান এবছর ৭ লাখ টাকায় পুরো এলাকায় প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোরিয়ার পতাকা টানান। আমরা ২০২৬ আবারও দেখলাম, তিনি আরও বড় করে বিশাল এলাকাজুড়ে পতাকা টানিয়েছেন। আমরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছি।
ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ঠিকাদার মো. আনোয়ার পারভেজ সেন্টু জানান, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসের ছিলেন। প্রবাস জীবনের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার এখনো অনেক আবেগ কাজ করে। সে দেশের প্রতি তার আলাদা টান ও ভালবাসা আছে। যার কারণে এবারো তিনি আরো বড় পতাকা টানিয়েছেন। মিন্টু ভাই, কোরিয়ার একজন বিরাট ভক্ত। আমরাও চাই তার মনের আশা যেন পূরণ হয়।
কোরিয়ার ফুটবল এই ভক্ত মিন্টু মিয়া জানান, গত ২০০২ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঠে বসে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখেছিলেন। সে সময়ে কোরিয়ার সুপার স্টার আঞ্জুমান নামে এক ফুটবলার খুব ভালো খেলতেন। সেখানে তার খেলা দেখে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দলের একজন ভক্ত হন। দেশ এবং ফুটবল দলের প্রতি ভালো বাসার বহি: প্রকাশ থেকে এমন প্রয়াস বলে, জানায় মিন্টু। তার এমন কাজে এলাকাবাসীসহ স্বজনরা উৎসাহিত করছেন।
২ সন্তানের জনক মিন্টু মিয়া আজ সকালে কোরিয়া ২-১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে জয় পাওয়ায় আনন্দে বিশ্বকাপ অব্দি তার পিস কোরিয়া ক্যাফেতে ১০% ছাড় ঘোষনা দিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রিয় দল দক্ষিণ কোরিয়া যেন এবার বিশ্বকাপে সাফল্য অর্জন করে এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
এফপি/এমআই