বাউফলে বাড়ির উঠানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তুচ্ছ ঘটনায় রবিন হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে বাউফল উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিন হাওলাদার ওই এলাকার বাসিন্দা। আহতরা হলেন তার স্ত্রী ঠাকুর রানী হাওলাদার, ছেলে রনি হাওলাদার ও হৃদয় হাওলাদার।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে বাড়ির উঠানে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য একই বাড়ির সাতটি পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে একটি প্লাস্টিকের পাইপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। পাইপ কেনা ও স্থাপনের ব্যয় সাতটি পরিবার যৌথভাবে বহন করার কথা থাকলেও এ বিষয়ে আপত্তি জানায় একই বাড়ির আনন্দ বেপাড়ির পরিবার।
এ নিয়ে বুধবার সকালে রবিন হাওলাদার ও আনন্দ বেপাড়ির মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে রতন বেপাড়ির নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রবিন হাওলাদারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
রবিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকেও বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিন হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রতন বেপাড়ি , প্রদীপ বেপাড়ি , আনন্দ বেপাড়ি ও সুশীলা বেপাড়ি ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এফপি/অ