চট্টগ্রাম মহানগরে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই নগরের বিভিন্ন থানায় ১৪৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় প্রতিদিনই একটি করে নির্যাতনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে ৩৯টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০টি, মার্চে ২৯টি এবং এপ্রিলে সর্বোচ্চ ৫১টি মামলা হয়েছে। এপ্রিল মাসে নির্যাতনের ঘটনা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি নগরের কয়েকটি এলাকায় শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বায়েজিদ এলাকায় চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ডবলমুরিং এলাকায় দুই শিশুকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা আরাফাতুল মজিদ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত চার্জশিট দাখিল ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিও পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা, তদন্তে ধীরগতি এবং সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগ অনেক অপরাধীকে পুনরায় অপরাধে জড়াতে সাহস জোগাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়।
সমাজবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মী ইয়াহিয়া হোসেন বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধ জোরদার এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এফপি/অ