বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তসহ পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ৮০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৪ লিটার বাংলা মদ এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি ও একটি ইজিবাইক জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় ইয়াবা পাচারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) ভোর ও দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর রেজুখাল চেকপোস্ট এবং রেজুপাড়া বিওপির টহলদল পৃথক এ অভিযান পরিচালনা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি।
বিজিবি সূত্র জানায়, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে রেজুখাল চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিজিবির প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড সদস্য ‘ডগ জন’-এর সহায়তায় সিএনজির চালক শাহ আলমকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়।
পরে সিএনজির টায়ারের ভেতর অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৯ হাজার ৮০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক শাহ আলম (৪৮) টেকনাফ উপজেলার নয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ ছাড়া মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সিএনজিটি জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ফাত্রাঝিরি বাজার এলাকায় অভিযান চালায় রেজুপাড়া বিওপির একটি টহলদল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে আসামীবিহীন অবস্থায় ৩৪ লিটার বাংলা মদ এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পিএসসি, পিবিজিএম বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আটক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত আলামতসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানের কারণে মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিশেষ করে কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ ৩৪ বিজিবির নিয়মিত তৎপরতায় সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
এফপি/জেএস