কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পনির ঢলে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিল এলাকার পানি নিচে তলিয়ে গেছে প্রায় ৬’শ বিঘা জমির উঠতি পাকা ইরি-বোরো ধান এতে এলাকার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
রবিবার (১০ মে) বিকেলে বিষয়টি জানার পর বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বিল এলাকায় পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম, কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, প্রতি বছর আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিল এলাকায় বিপুল পরিমান জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপন করেন কৃষকরা। এবার বিলের ওই সকল জমিতে জিরাশাইল জাতের ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ করা হয়। ধান পাকার আগ মুহুর্তে অসময়ের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে বিল এলাকায় পানি ঢুকে অল্প সময়ের মধ্যে একে একে প্রায় ৬শ বিঘা জমির পাকা উঠতি ইরিবোরো ধান পানির নিছে ডুবে যায়।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানায়, তারা অনেক টাকা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম, ধান ডুবে যাওয়ায় পথে বসতে হয়েছে। সরকারি ভাবে সহয়তা না পেলে অনেক পরিবার উঠতে পারবেনা। তারা সংসদ সদস্যের নিকট সহয়তা দাবি করেন।
বিল পরিদর্শনে আসা সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, সরজমিনে রক্তদহ বিলে যে পরিমান ধান পানিতে তলিয়ে গেছে তাতে করে বিপুল পরিমান কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহয়তার পাশাপশি বর্তমানে যে কাজ বেশি অগ্রধিকার দিতে হবে তা হলো বিল খনন ও বিলের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা।
রক্তদহ বিলে ২২টি শাখা খাল দিয়ে পানি প্রবেশ করে, কিন্তু মাত্র একটি পথ দিয়ে পানি বের হয়। যা কৃষকের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়ে থাকে। এ কারনে প্রায় প্রতি বছর পানিতে ধান তলিয়ে যায়। রক্তদহ বিল আদমদীঘি ও নওগাঁর রানীনগর উপজেলার সীমানায় অবস্থিত। তাই আমি ও নওগাঁ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে যোগাযোগ করে এই বিলের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরী করে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সহযোগীতায় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
এফপি/অ