নীলফামারীর ডোমারে পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করায় প্রায় দুই শতাধীক একর ফসলি জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রাস্তা কেটে পানি বের করার উদ্যোগ নেওয়ায় দুই শতাধিক একর জমির উঠতি ধান রক্ষা করলেন ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ।
রোববার (৩ মে) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী সরেজমিনে গিয়ে ফসলী জমির মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের সাথে কথা বলে পানি নিষ্কাশিত নালাতে থাকা রাস্তাটি কেটে শতশত জমির তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান রক্ষা করেন। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে নালাটিতে থাকা সব মাটি সরানোর নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। মুচলেকা দিয়ে ছাড় পান অভিযুক্ত বুলুর লোকজন। বাধিয়ে দেওয়া সময়ের মধ্যে ফসলি জমির উপরে থাকা মাটি না সরালে বুলুর বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ। ইউএনও'র এমন কাজে এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন ওই মানবিক কর্মকর্তা। তবে প্রশাসন যাওয়ার খবর পেয়ে আগেই সটকে পড়েন বুলু ইসলাম।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা গ্রামে। জানাযায় ওই গ্রামের বুলু ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অটো রাইস মিল ও ফিলিং ষ্টেশন দেওয়ার নাম করে শত বছর ধরে পানি নিষ্কাশিত নালাটি বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে করে কয়েকটি গ্রামের শতশত একর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। বুলু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রশাসনের ক্ষমতা দেখিয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে নালার উপর রাস্তা নির্মাণ করেন। সাধারণ মানুষ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী ও হাত পা কেটে দেওয়ার মতো প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করেন তিনি। এই ভয়ে অনেকে তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, বুলু ইসলাম ছয় সাত বছর আগে ঢাকায় রিক্সা চালাতেন। না খেয়েও কেটেছে তার অনেক দিন। কিন্তু হঠাৎ করে সে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। করেছেন বাড়ী গাড়ীসহ শতাধীক বিঘা জমি। হঠাৎ তার এমন পরিবর্তনে এলাকায় দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। আলাদিনের চেরাগ পেলেও এত তারাতারী এতো টাকার মালিক হওয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তারা বলেন গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপনে তদন্ত করলে কোটিপতি হওয়ার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বুলু ইসলামের।
এর আগে সকালে সোস্যাল মিডিয়ায় এসে বুলু অনেকের হাত পা কেটে দেওয়া প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করেন। ভাইরাল হওয়া আরেক ভিডিওতে দেখা যায় ভুক্তভোগী এক কৃষককে মেরে পুতে ফেলার হুমকি দেন তিনি। এতে করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ডোমার থানা ওসি'র অনুমতি ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তার দেয়া সার্টিফিকেটে তিনি এই কাজ করছেন বলে ভিডিওটিতে বলতে দেখা যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাবিবুল্লাহ বলেন জমিজমার বিষয়ে আমি কোন অনুমতি দেইনি এবং এই কাজ আমার নয়। সোস্যাল মিডিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ আনার কারনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, পানি নিষ্কাশিত নালা বন্ধ করে রাস্তাটি নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে করে অনেক ফসলি জমির ধান ডুবে যায়। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশিত নালাটির মাটি সরানোর মুচলেকা দেন বুলুর লোকজন। নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে আর কোন জলাবদ্ধতা হবে না। তাছাড়া ফসলি জমি নষ্ট করে কোন কিছু করা যাবে না।
এফপি/জেএস