Dhaka, Tuesday | 28 April 2026
         
English Edition
   
Epaper | Tuesday | 28 April 2026 | English
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটম মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হলেন দিনেশ ত্রিবেদী
জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার
শিরোনাম:

কয়রায় পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তাদের পরিবারের বসবাস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম  (ভিজিটর : ২১)

খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনগুলো এখন যেন একেকটি ঝুঁকির ফাঁদ। প্রায় ৫০ বছর পুরোনো এসব ভবনের দেয়াল ও ছাদজুড়ে অসংখ্য ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে পড়েছে মরিচা ধরা রড। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ভেতরে। যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বাধ্য হয়ে সেখানে বসবাস করছেন অনেকে।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ছয়টি আবাসিক ভবন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর জন্য পৃথক দুটি বাংলো নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া কর্মচারীদের জন্য রয়েছে একটি ডরমিটরি ভবন। সুন্দরবনসংলগ্ন হওয়ায় ভবনগুলোর নামকরণ করা হয় সুন্দরী, গেওয়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান ও ধুন্দল। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালে ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ভবনের দেয়াল ফেটে গেছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে এসেছে। মেঝে ও সিঁড়ির অবস্থাও নাজুক। অধিকাংশ জানালা-দরজা ভাঙাচোরা। দুটি ভবন পুরোপুরি পরিত্যক্ত থাকায় সেখানে আগাছা জন্মেছে। অন্য চারটিতে ঝুঁকি নিয়েই দুই-একজন করে বসবাস করছেন।

ভবনের বাসিন্দারা জানান, আবাসন সংকটের কারণে অনেক কর্মকর্তা বাধ্য হয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকছেন। আবার কেউ কেউ পরিবার নিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভাড়া বাসায় থাকছেন। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নতুন করে যোগদান করতে আসা কর্মকর্তারাও একই সমস্যার কারণে আগেই বদলির চেষ্টা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ভবনের ছাদের পলেস্তারা প্রায়ই খসে পড়ে। জীবন ঝুঁকিতে নিয়ে এখানে থাকতে হচ্ছে। শৌচাগার ব্যবহারেরও উপযোগী নয়।” তিনি আরও বলেন, স্বল্প বেতনে চাকরি করা কর্মচারীদের জন্য বাইরে বাসা ভাড়া নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাবির বলেন, “সরকারি কোয়ার্টারে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় প্রথমে হোটেলে থাকতে হয়েছে। এখন অফিস থেকে এক কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে আছি।”

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, আবাসন সংকটের কারণে পাশের উপজেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে, সেখান থেকে নিয়মিত অফিস করতে হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার মণ্ডল বলেন, “কোয়ার্টারের অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। তাই পরিবার নিয়ে আসতে পারছি না।”

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী আবুল ফজেল জানান, “কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবু নিরুপায় হয়ে অনেকেই সেখানে থাকছেন। বিষয়টি সমন্বয় সভায় তোলা হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “ভবনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।” ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে বসবাস বন্ধ করে দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফপি/অ

সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝