কুষ্টিয়ার মিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ২১জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃতদের বেশিরভাগ জামায়াতের নেতা ও কর্মী সমার্থক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কাওছার, মাহাবুল, ইমরান, আজিম, সফিকুল, মনি, ইরাক, আরশাফুল, মাসুম, রফিকুল, হাফিজুল, সবুজ, হাসমত, সোহেল, রুবেল ও কারিবুলের নাম জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে উক্ত এলাকায় শিশুরা একটি মাঠে ফুটবল খেলছিলো। এসময় একজনকে খেলায় না নেওয়ায় বাচ্চাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে সেটিকে অভিভাবকরা আধিপত্য বিস্তারের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-সমার্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় আক্তার আলীকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্বকভাবে জখমসহ মোট তিনজন আহত হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে আক্তার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
উক্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটার পরে শুক্রবার সকালে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ ব্যপারে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান জানান, শুক্রবার সকালে এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পরে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সেখানে গিয়ে যাকে পেয়েছে তাকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে দুইজন বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান তিনি।
মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ওমর ফারুক জানান, বাচ্চাদের খেলা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উতপ্ত করে ফেলেছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে গণহারে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে। এখানে জামায়াতের কর্মী সমার্থক, বিএনপির সমার্থক এবং সাধারণ মানুষও আছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, উক্ত এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উক্ত এলাকা থেকে ২১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে আমরা ২১ জনকে গ্রেফতার করেছি। সেখানে কোন রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের কাম্য নয়।
উল্লেখ্যঃ গত কয়েকবছর ধরেই উক্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জামায়াত-বিএনপি এবং জাসদের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে হামলা, লুটপাটের ঘটনা নিত্য ঘটনা। গত এক বছরে দশ বারের অধিক ঐ এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে বাড়ীঘর ভাংচুর, হামলা, দেশীয় অস্ত্রের মোহড়া এবং হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এফপি/অ