Dhaka, Wednesday | 29 April 2026
         
English Edition
   
Epaper | Wednesday | 29 April 2026 | English
আরও ৫ দিন থাকতে পারে বৃষ্টি
বৃষ্টির দিনেই কেন খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করে?
রাজধানীতে সকাল থেকে বৃষ্টি
রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ
শিরোনাম:

চকউলি কলেজে অধ্যক্ষ পুনর্বহাল নিয়ে উত্তাল ক্যাম্পাস

প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম  (ভিজিটর : ৬৫)

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চকউলি বহুমুখী হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রশাসনিক ও শিক্ষা পরিবেশ চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এমন ‘রহস্যজনক’ পুনর্বহালের নির্দেশে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে আসা বক্তাদের দাবি, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নিয়োগ বাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের পুকুর লিজের টাকা আত্মসাৎ এবং বাগানের গাছ বিক্রিসহ বিভিন্ন খাত থেকে তিনি প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার কারণেই তাকে বিধি মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

তদন্ত চলাকালীন অবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে তাকে পুনর্বহালের পত্র আসায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিভাবক সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চাঁদ জানান, বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন। সেই রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কিংবা বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হতেই তাকে তড়িঘড়ি করে চেয়ারে বসানোর প্রক্রিয়াকে ‘রহস্যজনক’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া দাতা সদস্য রুস্তম আলী বলেন, “বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কোনো নির্বাচিত গভর্নিং বডি নেই, ইউএনও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুনর্বহালের চেষ্টা করছে।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ফিরলে প্রতিষ্ঠানের চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়বে।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে তাকে বাধা দিচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসন কেবল মাউশির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতেই পুনর্বহালের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এখানে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

আইনি লড়াই আর প্রশাসনিক নির্দেশনার মারপ্যাঁচে এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, দুর্নীতির সঠিক তদন্ত না করে এবং উচ্চ আদালতের রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত অধ্যক্ষকে কোনোভাবেই কলেজে ঢুকতে দেওয়া হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

এফপি/জেএস
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝