সিঙ্গাপুরের ৩০ হাজার দর্শকের বিপরীতে গ্যালারিতে ছিলেন ছয় হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের উৎসাহে সবুজ গালিচায় শমিত সোম-ফাহমিদুল ইসলামরা দেখিয়েছেন নিজেদের ফুটবল শৈলী। কিন্তু প্রথমার্ধে আচমকা এক গোলেই এলোমেলো হয়ে যায় সবকিছু। সুযোগ এলো, কিন্তু কখনও শট লক্ষ্যভ্রষ্ট আবার কখনও পোস্টে বাধা। মঙ্গলবার হতাশায় মোড়ানো ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মাঠে জয়ের স্বপ্নটা পূরণ হয়নি বাংলাদেশের। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের দলটি।
বাছাইয়ের শেষের মতো কোচ হিসেবে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার বাংলাদেশ অধ্যায়ের শেষটাও হয়েছে পরাজয় দিয়ে। চুক্তি অনুযায়ী কোচ হিসেবে এটা ছিল ক্যাবরেরার শেষ ম্যাচ। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ ‘সি’তে ছয় ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে বাংলাদেশ। তবে হারলেও শিষ্যদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ ক্যাবরেরা। ম্যাচের পর এ স্প্যানিয়ার্ড বলেন, ‘আজকের ফলাফলটি মেনে নেওয়া বা হজম করা আমাদের জন্য খুবই কঠিন। কারণ সম্ভবত পুরো গ্রুপ পর্বে এটাই ছিল আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, দলটি আজ জয় অথবা ১ পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ছেলেরা যে পারফরম্যান্স করেছে, তাতে তাদের নিয়ে আমি গর্বিত। আপনি পুরো ম্যাচ দেখলে বুঝতে পারবেন আমরা কেমন করেছি। অপ্রত্যাশিতভাবে আমরা জিততে পারিনি। ভাগ্য সহায় থাকলে পয়েন্ট পেতে পারতাম। এবার হয়নি, আশা করি আগামীতে হবে।’
ম্যাচের স্কোরলাইন বাদ দিলে সিঙ্গাপুরের মাঠে বাংলাদেশের ফুটবলাররা নিজেদের সর্বোচ্চটা নিংড়ে দিয়েছেন। একে অন্যের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখান জায়ান আহমেদ-সাদ উদ্দিনরা। ছোট্ট কয়েকটি পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে ম্যাচে বাংলাদেশের দাপট ছিল কতটা। পুরো ম্যাচে ৬৩ ভাগ বল পজিশনে রাখা বাংলাদেশের ১৪ শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে। র্যাঙ্কিংয়ে ৩৩ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ৪-৩-৩ ছকে বিল্ডআপ ফুটবল খেলার কৌশল সাজান বাংলাদেশ কোচ। ১৫ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে সাদ উদ্দিনের ক্রসে শমিত সোমের হেড পোস্টের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশা বাড়ে।
সেই হতাশা দ্বিগুণ হয়ে যায় খেলার ধারার বিপরীতে ৩১ মিনিটে বাংলাদেশ গোল হজম করলে। বাঁ প্রান্ত থেকে উঠে আসা গ্লেন কুয়ের শট মিতুল মারমা ফিরিয়ে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি শটই বিপদ ডেকে আনে। ইখসান ফান্দির পাস থেকে জাল খুঁজে নেন ডান প্রান্তে থাকা হ্যারিস স্টুয়ার্ট। তাঁকে আটকাতেই পারেননি তারিক কাজী ও শাকিল আহাদ তপু। ৮ মিনিট যেতে না যেতেই সমতা ফেরানোর সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। শেখ মোরসালিনের ডান পায়ের জোরালো শট সিঙ্গাপুরের সাফুয়ান বাহারুদ্দিন ব্লক করেন। এরপর দৌড়ে গিয়ে বল মারতে গিয়ে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম পড়ে যান। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির আবেদন করলেও তাতে সাড়া মেলেনি রেফারির।
বিরতির পর বাংলাদেশের খেলায় ধার বাড়ে। ৪৯ মিনিটে শেখ মোরসালিনের কর্নার অ্যাক্রোবেটিক গোলের চেষ্টায় শট নিতে যান হামজা। কিন্তু হামজার সামনে থেকে শাকিল আহাদ তপু বল নিয়ে যান। ৩ মিনিট পর হামজার ডিফেন্স চেরা পাস খুঁজে নেয় ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ফাহিমের বুলেট গতির শট সিঙ্গাপুর গোলরক্ষক ইজওয়ান মাহমুদ গ্লাভসে জমা করেন। ৭৯ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে হামজার নিখুঁত ক্রসে মিরাজুল পা ছোঁয়ালেও বল গিয়ে সাইড পোস্টে আঘাত হানে। হতাশা নেমে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। ম্যাচের শেষেও সেই হতাশা কাটাতে পারেনি ক্যাবরেরার দল।
এফপি/অ