নেছারাবাদ উপজেলায় ১৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে “গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা” নামে একটি বেসরকারি এনজিও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
উপজেলার প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত মেন্যুতে শিক্ষার্থী প্রতি ৬০ গ্রাম ডিম ও ১২০ গ্রাম রুটি দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিমের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ডিমের ওজন নির্ধারিত ৬০ গ্রামের কম হওয়ায় গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
রোববার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার জসিম আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে দেশের ১৫১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নেছারাবাদ উপজেলাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কর্মসূচির অধীনে সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের দুধ, ডিম, রুটি, বিস্কুট ও কলা সরবরাহ করা হবে।
রোববার সরেজমিনে স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ডিমের একটি অংশ তুলনামূলক ছোট এবং সেগুলোর ওজন নির্ধারিত মানের চেয়ে কম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সীমা রানি হালদার জানান, “আমাদের বিদ্যালয়ের ৬১৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য আগের দিন কাঁচা ডিম ও প্যাকেটজাত বনরুটি সরবরাহ করা হয়েছে। ডিম সিদ্ধ করার জন্য প্রতিটি ডিমের বিপরীতে এক টাকা করে দেওয়া হয়েছে।”
সহকারী শিক্ষক সুজন সমদ্দার বলেন, “সরবরাহ করা ডিমের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছোট, যেগুলোর ওজন ৬০ গ্রামের নিচে।”
এ বিষয়ে গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট গোপাল চন্দ্র শীল বলেন, “এটি একটি বৃহৎ প্রকল্প। ১৬৯টি বিদ্যালয়ে একযোগে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতে খাবারের মান ও নির্ধারিত ওজন শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। এখানে কোনো গাফিলতির সুযোগ নেই।”
এফপি/অ