Dhaka, Friday | 5 June 2026
         
English Edition
   
Epaper | Friday | 5 June 2026 | English
বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম
বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়
৪ বিভাগে ভারি বর্ষণের শঙ্কা
ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ-নেপাল
শিরোনাম:

৫ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:১৩ পিএম  (ভিজিটর : ১০২)

খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কারণে সেতুটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

উপজেলা সদর থেকে হায়াতখালী জিসি হয়ে গিলাবাড়ি জিসি সড়কের শাকবাড়িয়া নদীর ওপর ৪ হাজার ২৫৫ চেইনেজে ৩৬ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লোকচক্ষুর আড়ালে অনেক সময় রাতের বেলাতেও কাজ চালানো হচ্ছে।

গত বুধবার সকালে সেতু নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মহারাজপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ বন্ধ করে দেন। তবে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালুমিশ্রিত ও নিম্নমানের পাথর এবং মানহীন ঢালাইসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, এর আগেও কয়েক দফা কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন বিরতির পর একই ধরনের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে আবারও কাজ শুরু করা হয়।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, 'উপজেলা সদর থেকে হায়াতখালী জিসি হয়ে গিলাবাড়ি জিসি সড়কের ৪ হাজার ২৫৫ চেইনেজে ৩৬ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ' প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এসএ-জেডটি জেভি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের ৩ আগস্ট কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৫ শতাংশ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফফার বলেন, “সেতু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। মানুষ যাতে দেখতে না পারে, সে জন্য গভীর রাতেও কাজ করা হচ্ছে। যে পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে, তা হাতে চাপ দিলে ভেঙে যাচ্ছে। তাই আমরা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।”

আরেক বাসিন্দা আব্দুল বলেন, “বালু ও সিমেন্ট সঠিক অনুপাতে ব্যবহার করা হচ্ছে না। কাজের স্থানে তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ডও নেই। প্রকল্পের নকশা ও শিডিউল দেখতে চাইলেও তা দেখানো হচ্ছে না।”

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম, মইনুল গাজি ও আহাদ আলীসহ কয়েকজনের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি একাধিকবার তুলে ধরা হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁরা বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিরাজ হোসেন বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন। আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, আমি সেভাবেই কাজ করছি।”

উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “ব্যবহৃত বালু ও পাথর ভালো মানের। নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে। জেলা কার্যালয়ের ল্যাবে নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরীক্ষার ফল না আসার আগেই একই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। প্রতিবেদনটি আরও বেশি প্রথম আলোর ধাঁচে করতে চাইলে আমি শিরোনাম, উপশিরোনাম ও তথ্যের বিন্যাস আরও পরিমার্জন করে দিতে পারি।

এফপি/এমআই
সর্বশেষ সংবাদ  
সর্বাধিক পঠিত  
YOU MAY ALSO LIKE  
Editor & Publisher: S. M. Mesbah Uddin
Editorial, News and Commercial Offices: Akram Tower, 15/5, Bijoynagar (9th Floor), Ramna, Dhaka-1000
Call: 01713-180024, 01675-383357 & 01840-000044
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected]
...
🔝