সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা শ্রীপুর এলাকা পাটলাই নদীতে বিডব্লিউটিএর ইজারাকৃত ঘাটে সরকার নির্ধারিত হারে রশিদের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা জন্য ঢোল আদায়ের জন্য সরকার কতৃক নির্ধারিত টোল আদায়ের চার্ট সাটানো আছে পাটালাই নদীর বিআইডব্লিওটিএ'র জেটিতে।
সরকারের পক্ষ হতে কয়েকদিন ধরে সরকারি মূল্য তালিকা মাইকিং করে প্রচার করা হচ্ছে এবং ইজারাদার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টোল আদায় করে তাহলে ইজারাদার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিকটস্থ নৌ-পুলিশ বা থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়।এতে করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকারের। পাশাপাশি হাজারো নৌ-শ্রমিক এবং বালু-পাথর ব্যবসায়িদের মনে স্বস্থি ফিরে এসেছে।নৌকাঘাটের টোল চার্ট টাঙ্গিয়ে টোলচার্টে প্রদত্ত হার মোতাবেক শুধুমাএ ঘাট ব্যবহারকারী মালবাহী ভলগেট,বাজ, দেশীয় বড় নৌকা, ছোট নৌযানের নিকট থেকে রশিদের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে।উক্ত নৌকাঘাট ব্যবহারকারী কয়েকটি পরিবহনের শ্রমিকদের সাথে কথা হলে তারা জানা যায়, ঘাট ব্যবহারকারী নৌযানসমূহ শুধুমাত্র টোলচার্টে উল্লেখিত হারে কোন রকম জোর জবরদস্তি ছাড়াই রশিদের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা,চুনাপাথর বড় বাল্কহেড ও স্টিলের নৌযানে করে পাটলাই নদী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। পাটলাই বিডব্লিওটিএর জেটিতে নৌকা নোংগর করে ঝামেলাবিহীন রাত কাটিয়ে গন্তব্য পৌছানোর জন্য যাত্রা করে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিডব্লিউটিএর নির্ধারিত ঘাটে টোল আদায় করে হচ্ছে অতিরিক্ত কোন টাকা আদায় করা হচ্ছে না ঘাট এলাকায়। প্রতি টন চুনাপাথর ৩৪.৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে রশিদ এর মাধ্যমে এবং নৌ পরিবহন মালিকেরা স্বাচ্ছন্দভাবে টোল দিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শকের সঙ্গে কথা হয়, তিনি জানান বিআইডব্লিটিএ ইজারাদারের লোকজন নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করছে।সরকার নির্ধারিত হারের বেশি আদায় করলে আমাদের জানানোর জন্য বলা হয়েছে।
মেসার্স আল্লাহর দান নৌ-পরিবহনের সুকানী ইঊসুফ মিয়া বলেন, ডাম্পের বাজার এলাকা থেকে ১৮০ টন কয়লাবাহী একটি নৌকা নিয়ে বের হওয়ার সময় পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিওটিএ ইজাদারদের ঘাটে (প্রতি টন ৩৪.৫৯ টাকা) নির্ধারিত হারের রশিদের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে। কোন প্রকার ঝামেলা বা ভয়ভীতি ছাড়াই আমরা টোল দিয়ে গন্তব্য যাত্রা করছি।
মেসার্স নিঊ মায়ের দোয়া পরিবহনের নৌ-শ্রমিক আলী হোসেন বলেন, পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিওটিএ ইয়াজারাদার লোকজন আমাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত হারে ৩৪.৫০ টাকা প্রতি টনে ঢোল আদায় করছে। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম হয়না। কোন প্রকার জোর জবরদস্তি ও করা হয় না।
নৌ শ্রমিক জসিম মিয়া বলেন,একটি অসাধু ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট চক্র ইজারাদারকে সরকার কতৃক নির্ধারিত টোল না দিয়ে নৌপথে চলাচল করতে চায়, রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে তাদের পরিবহনে নির্ধারিত টোল আদায় করতে চাইলে নামে-বেনামে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে ইজারাদারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মরিয়া।আমরা নৌ শ্রমিকেরা সরকারের রাজস্ব দিয়ে সরকারের অর্থনৈতিক চাকা গতিশীল রাখতে চাই।
পাটলাই নদীর বিআইডব্লিউটিএ'র ঘাটের ইজারাদার মোঃ ফারুক মিয়া বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পাটলাই নদীতে প্রতিনিয়ত অভিযান চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোন সুযোগ নেই।নদীতে যাতে শ্রমিকরা হয়রানির শিকার এবং অতিরিক্ত টোল আদায় না করা হয় সেজন্য মাননীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদীতে মাইকিং করা হয়েছে, সরকার নিধারিত হারে টোল আদায় করার জন্য। তাই আমরা সরকার কতৃক নির্ধারিত প্রতি টনে ৩৪.৫০ পয়সা হারে কর্তৃপক্ষের দেওয়া রেটে টোল আদায় করছি।এখানে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।নৌ-পরিবহন শ্রমিকদের সাথে আমাদের সম্পর্ক যতেষ্ট আন্তরিক।
টুকের বাজার নৌ পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ দিলীপ কুমার দাশ বলেন, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাটলাই নদী পথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের আমরা অত্যান্ত কঠোর। সরকার নির্ধারিত টোল আদায়ের বাহিরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ দেওয়া হলে সাথে সাথে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্ধারিত হারে ঢোল আদায় করার জন্য বলা হয়েছে। কোন অনিয়ম হলে অভিযোগ দিলে সাথে সাথে আমরা ব্যাবস্থা নিব।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোঃ মেহেদী হাসান মানিক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বলা হয়েছে সরকার নির্ধারিত হারে টাকা আদায়ের জন্য। নদী বা ঘাটে অন্যায়ভাবে টাকা আদায় বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।নদী পথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে এখন পযর্ন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।দুই একটা মৌখিক অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে সমাধান করে দিয়েছি।পাটলাই নদীতে যথেষ্ট স্বচ্ছতাভাবে বিআইডব্লিওটিএর কতৃক ইজারাদারেরা সরকার নির্ধারিত হারে টোল আদায় করছে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি হচ্ছে। কোন প্রকার অনিয়মের সুযোগ নেই।
এফপি/জেএস