মাথার ওপর ঝুলছে খসে পড়া প্লাস্টার। দেয়ালে ফাটল, কোথাও বিম বের হয়ে আছে। টিনশেড ঘরের ছাদে বড় বড় ছিদ্র। এমন অনিরাপদ পরিবেশেই চলছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার মুদাফৎথানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। প্রতিদিন প্রায় আড়াই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়েই শ্রেণীকক্ষে বসছে।
বিদ্যালয় সুত্রে জানাগেছে, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে দুটি টিনশেড ঘর ও ২০০৫ সালে নির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তিনটি ভবনই এখন জরাজীর্ণ। একতলা ভবনের ছাদের বিভিন্ন অংশে ধস নেমেছে, প্লাস্টার খসে পড়ছে। কোথাও বিম উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে। টিনশেড ঘরের টিন পচে গেছে, বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে কক্ষে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচেই শিক্ষক পাঠদান করছেন। শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে আছে। ঝুলন্ত সিলিং ফ্যানের গোড়া থেকেও প্লাস্টার খসে পড়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদুল হাসান জানান, ভবনের অবস্থা এতটাই নাজুক যে প্রায়ই শ্রেণীকক্ষে পোকামাকড় ও সাপ দেখা যায়। তিনি নিজেই দুদিনে দুটি সাপ মেরেছেন। নিরাপত্তা দুর্বল থাকায় ইতোমধ্যে চারটি বৈদ্যুতিক পাখা চুরি হয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রুতি রানী ও মো. লামিম জানায়, ক্লাস করার সময় প্রায়ই ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে। তখন তারা ভয় পেয়ে যায়। মাথার ওপরে তাকিয়ে থাকতে হয়, কখন আবার কিছু পড়ে। বৃষ্টি হলে কক্ষের ভেতর পানি ঢুকে যায়, বই-খাতা সরিয়ে নিতে হয়। এ অবস্থায় ঠিকমতো পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
একই শ্রেণির নারু গোপাল, মোছা. মিষ্টি খাতুন ও মো. বায়েজিদ বলেন, ‘ঝুলে থাকা ছাদ আর নড়বড়ে টিনের নিচে বসে তাদের সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। কখনও পোকামাকড়, কখনও সাপ দেখা যায়। এতে ক্লাসে মন বসে না। তারা দ্রুত একটি নতুন ও নিরাপদ স্কুল ভবন নির্মাণের দাবি করেন।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মন্নুজান মেঘলা বলেন, ‘শ্রেণীকক্ষের সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একটি বহুতল ভবন নির্মাণ এখন জরুরি প্রয়োজন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান,‘ভবন নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল, তবে অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আবারও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
এফপি/জেএস