কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ৭০ জন বাংলাদেশি জেলেকে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ফেরত দিচ্ছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। দুপুরে নাফ নদীর শূন্যরেখায় তাদের হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
জেলেদের ফেরত আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি প্রতিনিধিদল টেকনাফের জালিয়াপাড়া ঘাট থেকে সোমবার দুপুরে নাফ নদীর শূন্যরেখার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, “বিভিন্ন সময় ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মধ্যে অন্তত ৭০ জনকে ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে আরাকান আর্মি। নাফ নদীর শূন্যরেখায় তাদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। জেলেদের গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।” সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্তবর্তী জলসীমা থেকে মাছ ধরার সময় একাধিক ট্রলারসহ শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। বর্তমানে অন্তত ২০০ জেলে তাদের হাতে জিম্মি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা থাকলেও বেশিরভাগই বাংলাদেশি নাগরিক।স্থানীয়দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করলে কিংবা উত্তাল সাগরে ভেসে গেলে তাদের আটক করা হয়। আবার কখনও ট্রলারসহ জিম্মি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ফেরত আসার খবরে টেকনাফ ও আশপাশের এলাকায় জেলেদের পরিবারে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় ঘাট এলাকায় অনেকেই অপেক্ষা করছেন। তবে এখনো যেসব জেলে আটক রয়েছেন, তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি।এক জেলের স্বজন বলেন, “আমরা শুধু চাই তারা নিরাপদে ঘরে ফিরুক। যারা এখনো আটক আছে, তাদেরও দ্রুত ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে।” সীমান্তবর্তী নাফ নদী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের প্রভাব সীমান্ত এলাকায় পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কার্যকর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত বিশ্লেষকদের।
বিজিবি জানিয়েছে, জেলেদের গ্রহণের পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে এখনো আটক থাকা অন্য জেলেদের ফেরত আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে জেলেদের নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এফপি/জেএস