বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচন ছিল একটি জরুরী বিষয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। আমাদের দল আসন কম পেলেও ভোটের পার্সেন্টেজে আলহামদুলিল্লাহ অনেক এগিয়েছে।
তিনি নির্বাচিত দল বিএনপি দুই শতাধিক আসন পেলেও ভোটের পার্সেন্টেজে আমরা মাত্র ২.৭% পিছিয়ে। ফলে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে সত্য কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক আগে থেকেই চলে আসছে আমাদের দেশে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় খুলনা জেলার ফুলতলার আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, আপনারা টেলিভিশনে দেখেছেন সংবাদমাধ্যমে জেনেছেন আমাদের আমীরে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ইসিতে ৩২টি আসনের ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
জনগণ মনে করে টেম্পারিং বা বিভিন্ন ম্যাকানিজম করে আমাদেরকে হারানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের পরের রাতেই গেজেট প্রকাশ করে জনগণের সে ধারণাকে আরো গভীর করে তুলেছে। তাই নির্বাচনের এ ফলাফলে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
উপজেলা আমীর অধ্যাপক আঃ আলিম মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারি সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস ও প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাষ্টার শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ।
এরপর সকাল ১০টায় ডুমুরিয়া উপজেলার শোলগাতিয়া মাদরাসায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুখতার হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সকাল ১১টায় আঠারোমাইলে মাওলানা মুখতার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক নির্বাচনোত্তর অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, আমাদের দেশের একটা বাজে কালচার হলো নির্বাচনের পরে যারা পরাজিত হয়, তাদের উপর জুলুম নির্যাতন করা। ভেবেছিলাম অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসবে সবাই। কিন্তু আমরা দেখলাম সারাদেশে আমাদের কর্মী, সমর্থকের উপর হামলা, বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব বিষয়ে নজর দিবেন এবং ঘটনার ইতি টানবেন। কিন্তু বিএনপির নেতা কর্মীরা এখনও থেমে যায়নি।
গতকাল রাতেও মশিয়ালীতে আমাদের কর্মীর বাড়িতে আগুন দিয়েছে, ডুমুরিয়ায় কিছু ঘটনার সংবাদ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহবান জানাচ্ছি। তবে পরিস্থিতি যদি বন্ধ না হয় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। তাই আমার দলের নেতাকর্মীদের শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থেকে ধৈর্য ধারণের আহবান জানাই। আশা করি খুব শ্রীঘ্রই এ সমস্যা দুর হবে ইনশাআল্লাহ।
ভোট পুনঃগণনার বিষয় টেনে গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, যে কোন কাজের একটা সিস্টেম আছে। আমাদের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট রিটার্নিং অফিসার বরাবর দরখাস্ত দিয়েছে। ডিসি মহোদয় ভোট গণনা করে দিলেই তো সবার জন্য ভালো হয়। কিন্তু আইনের কিছু বিষয় রয়েছে।
এফপি/জেএস